
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা শান্তি আলোচনার অচলাবস্থা নিরসনে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের পাশাপাশি ইরানে পুনরায় সীমিত সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ট্রাম্প যে বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবছিলেন, এটি তার মধ্যে অন্যতম। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প চাইলে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় বোমা হামলা শুরু করতে পারেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের প্রতি প্রেসিডেন্টের অনীহার কারণে সেই সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সাময়িক অবরোধের পথও বেছে নিতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক এসকর্ট মিশনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, ট্রাম্প রোববারের বেশির ভাগ সময় ফ্লোরিডার ডরাল রিসোর্টে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ফোন করেছেন, গলফ খেলেছেন এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অবরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবং ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিলেও তিনি এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা করতে চাই না, কিন্তু ওগুলো তাদের পানি, তাদের লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্ট এবং তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র—যেগুলোতে আঘাত করা খুবই সহজ।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ট্রাম্পের নির্দিষ্ট বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধ করেছে। তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অন্য সকল বিকল্পও হাতে রেখেছেন। যারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলছে যে তারা জানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীকালে কী করবেন, তারা নেহাতই অনুমাননির্ভর কথা বলছে।’
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে চায়। মার্কিন প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। ইরানের প্রতিনিধিদলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য রেজা আমিরি মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র। তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি স্থাপন করেছে। যদি বিশ্বাস এবং সদিচ্ছা জোরদার হয়, তবে এটি সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারে।’
মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলো তুলে ধরেছেন। যার মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালি কোনো টোল ছাড়াই চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা, আঞ্চলিক মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো মেনে নেওয়া এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করা।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতির কারণে ভেঙে যায়। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই যুদ্ধ শুরু করার একটি প্রধান কারণ।
মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতে, ট্রাম্প পরবর্তীকালে যে পথই বেছে নিন না কেন, তাতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। পুনরায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করলে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে সন্দিহান ভোটারদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, ইরানের শাসনব্যবস্থা অক্ষত থাকা অবস্থায় বা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা অবস্থায় সামরিক অভিযান কমিয়ে দিলে তা তেহরানের বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।
কিছু কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য ‘সেরা’ অথবা ‘সবচেয়ে কম খারাপ’ বিকল্প হিসেবে প্রশংসা করেছেন। ইরানের সরকারি রাজস্বের প্রায় অর্ধেক আসে তেল ও গ্যাস থেকে। একটি সফল অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে, যা দেশটির অর্থনীতির ইঞ্জিন। এর ফলে মার্কিন মিত্র এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে এটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে তেহরান এই প্রণালিকে জিম্মি করতে পারবে না।
আটলান্টিক কাউন্সিলের ম্যাথিউ ক্রোয়েনিগ বলেন, ‘আমরা ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে এই অবরোধ কৌশল সফল হতে দেখেছি এবং ট্রাম্পের কাছে এটি এখানেও প্রয়োগ করার সুযোগ আছে। আমি মনে করি, এটি ইরানি শাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর এবং তাদের কঠিন দোটানায় ফেলার একটি কার্যকর উপায়।’
তবে অবরোধেরও নিজস্ব ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের ওপর কয়েক দশকের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা নতি স্বীকার করেনি এবং কয়েক সপ্তাহের মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার পরও তারা নমনীয় হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের উপকূলের কাছে সরু প্রণালিতে অবস্থানরত নৌযানগুলো যেকোনো সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে পারে।
যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে ট্রাম্প বারবার তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আগে তিনি বলেছিলেন এই প্রণালি কোনো বড় সমস্যা নয়, কিন্তু পরে তিনি এটিতে বেশি গুরুত্ব দেন। মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকেও তিনি চাপের মুখে আছেন। কারণ, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথটি বন্ধ হওয়ার প্রভাব তারাই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্প তোপের মুখে পড়ছেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে পেট্রলের দাম বেশি থাকতে পারে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি।
জেডি ভ্যান্স যখন ইসলামাবাদে দীর্ঘ ম্যারাথন আলোচনা শেষে বের হচ্ছিলেন, ট্রাম্প তখন মিয়ামিতে একটি আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ইভেন্টে ছিলেন। রোববার ফক্স নিউজে কথা বলার সময় যুদ্ধের খবর পরিবেশন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ডরাল ক্লাবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের সঙ্গে গলফ পোশাকে ট্রাম্পকে দেখা গেছে। এদিন তিনি গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিনের সঙ্গেও বিবাদে লিপ্ত হন; যিনি ট্রাম্প এবং এই যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্রিংস্টিনের চেহারা নিয়ে উপহাস করেন।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ট্রাম্পের উপদেষ্টা, মিত্র এবং করপোরেট নেতাদের মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক খরচ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেবে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিভ মুর বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার পরামর্শ হলো—যেকোনো মূল্যে এবং অবিলম্বে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রণালী নিরাপদ করা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহ রক্ষা করার ক্ষমতা আমাদের আছে এবং তা ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় পুরো বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়বে।’
ট্রাম্প এই সাময়িক কষ্টকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার প্রয়োজনীয় মূল্য হিসেবে সমর্থন করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের এনএসসি কর্মকর্তা ফ্রেড ফ্লেইটজ বলেন, ইরান ইসলামাবাদে যে বিশাল প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে তা প্রমাণ করে একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ট্রাম্প ঠিকই বলেছেন, ইরানের হাতে আর কোনো তাস নেই। এই সংঘাত মাত্র কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা আগেভাগে বলা হয়ে যাবে।’

হাঙ্গেরির প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর অরবান গতকাল রোববারের জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারিয়েছেন। টানা ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পর তিনি হেরে যান তুলনামূলক নবীন মধ্য-ডানপন্থী টিসা পার্টির কাছে। এই ফলাফল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য একটি বড় ধাক্কা...
৫ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা আজ সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধ করতে শুরু করবে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগে এটি ওয়াশিংটনের সর্বশেষ পদক্ষেপ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে অর্থনৈতিক শক্তিকে অস্ত্রে পরিণত করার একধরনের একচেটিয়া আধিপত্য বহুদিন উপভোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যেসব রাষ্ট্রকে বাগে আনতে ব্যর্থ হতো, তাদের ডলার বা সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে তারা শাস্তি দিত। তবে এক বছরের মধ্যে দুবার বিশ্ব অর্থনীতিতে
৮ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহু কাঙ্ক্ষিত আলোচনা শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ১৪ ঘণ্টার সেই আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদলই গতকাল রোববার দেশে ফিরে গেছে। তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা বা ফলাফল পাওয়া গেল না ইসলামাবাদ থেকে।
৯ ঘণ্টা আগে