Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে মদ তৈরির ১৫৮ বছরের পুরোনো নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক ঘোষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে মদ তৈরির ১৫৮ বছরের পুরোনো নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক ঘোষণা
ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে মদ তৈরির (হোম ডিস্টিলিং) ওপর বলবৎ থাকা ১৫৮ বছরের পুরোনো একটি ফেডারেল নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন দেশটির একটি আপিল আদালত। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউ অরলিন্সে অবস্থিত ‘ফিফথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিল’ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

আদালত জানিয়েছেন, কর আদায়ের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের এই নিষেধাজ্ঞা একটি অপ্রয়োজনীয় এবং অনুচিত মাধ্যম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অলাভজনক সংস্থা হবি ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং এর ১ হাজার ৩০০ সদস্যের মধ্যে চারজন এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, শখের বশে বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য (যেমন অ্যাপল পাই ভদকা তৈরির রেসিপি পরীক্ষা করা) বাড়িতে মদ (স্পিরিট) তৈরির স্বাধীনতা সাধারণ মানুষের থাকা উচিত।

১৮৬৮ সালের জুলাই মাসে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। মূলত মদের ওপর কর ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করতেই তখন এই আইন পাস করা হয়। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান ছিল।

তিন বিচারপতির প্যানেলের পক্ষে সার্কিট জজ এডিথ হোলান জোন্স রায়ে উল্লেখ করেন, এ নিষেধাজ্ঞা আসলে কর রাজস্ব কমিয়ে দিচ্ছিল। কারণ উৎপাদনে বাধা দেওয়ার ফলে সরকার কর সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছিল না। তিনি আরও বলেন, সরকারের যুক্তি মেনে নিলে কংগ্রেস চাইলে বাড়িতে বসে করা যেকোনো কাজকেই (যেমন রিমোট ওয়ার্ক বা হোম-বেজড বিজনেস) অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারে, যদি তা কর কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে থাকে।

বিচারক জোন্স আগের নিষেধাজ্ঞাকে ‘সংবিধানের অপব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

হবি ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী ডেভিন ওয়াটকিনস এই রায়কে ‘ফেডারেল ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। আপিলকারীদের পক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যান্ড্রু গ্রসম্যান বলেন, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এক বড় বিজয়।

এই রায়ের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের জেলা জজ মার্ক পিটম্যানের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়টি বহাল থাকল। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ট্রেজারি বিভাগের অ্যালকোহল ও টোব্যাকো ট্যাক্স অ্যান্ড ট্রেড ব্যুরো তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত