
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই খোলা থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টার মধ্যে সাতটি দাবি করেছেন, যার প্রতিটিই ‘মিথ্যা’। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে দাবিগুলোর নাম বলেননি। গালিবাফ কঠোর ভাষায় বলেন, ‘তারা এসব মিথ্যা দিয়ে যুদ্ধে জিততে পারেনি এবং আলোচনায়ও কোথাও পৌঁছাতে পারবে না। হরমুজ খোলা নাকি বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারিত হবে রণক্ষেত্রে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়।’
গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই পথে যাতায়াত করতে হলে ইরানের ‘নির্ধারিত রুট’ এবং ‘ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি’ নিতেই হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সম্মানে হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ ঘোষণা করলেও ট্রাম্প তাতে পানি ঢেলে দেন। ট্রাম্প জানান, যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের নৌ অবরোধ বজায় থাকবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বোমা হামলা শুরু করতে পারে। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াব না...আমাদের আবারও বোমা ফেলা শুরু করতে হতে পারে।’ তবে তিনি দাবি করেছেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়ে যাওয়ায় লেনদেনটি ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট (পারমাণবিক ধূলিকণা) খনন করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও পাঠানোর বিষয়টি কখনোই আলোচনার টেবিলে ওঠেনি এবং এগুলো কোনো দেশেই স্থানান্তর করা হবে না।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। দুই মাস যুদ্ধের কারণে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এখন হরমুজ প্রণালিকে প্রায় একটি ‘পারমাণবিক প্রতিরোধক’ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপত্তা গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত যাতায়াত শুরু করতে ভরসা পাচ্ছে না। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, ইরান আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ডের দাবি, আমেরিকা ‘অবরোধের’ দোহাই দিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুতা ও মালপত্র চুরির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালিতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

ইরানের সেনা দিবস উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি নতুন লিখিত বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই বার্তায় চলমান পরিস্থিতির সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়—হরমুজ প্রণালি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সম্পর্কে কোনো উল্লেখ না থাকায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
আজ সকালে মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলোতে দেখা যায়, আটটি তেলের ট্যাংকারের একটি বিশাল বহর হরমুজ অতিক্রম করছে। সাত সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল বড় কোনো নৌযানের প্রথম প্রকাশ্য চলাচল। কিন্তু এই স্বস্তির রেশ বেশিক্ষণ টেকেনি।
২ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনার চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে দেশটির ক্ষমতাসীন লিবার্টারিয়ান জোটের এক সিনেটরের অদ্ভুত ও বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সিনেটর ভিলমা বেদিয়া দাবি করেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যদি গাধার মাংস খাওয়া শুরু করে, তবে একটি স্বাস্থ্যকর জাতি গঠন করা সম্ভব হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সমুদ্র নিরাপত্তা ও শিপিং-সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
৩ ঘণ্টা আগে