Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। এদিকে আজ বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল—ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ করলে এবং দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিলে লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একে ‘লেবাননের জনগণের একটি অংশকে ধ্বংস করার এবং বাকিদের দাস বানানোর রোডম্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যত দিন দখলদারি থাকবে, তত দিন প্রতিরোধও চলবে।’

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও এই যুদ্ধ থামেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার পর লেবানন-ইসরায়েল এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশ মিলে তারা কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) ওই এলাকাগুলোর একক নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং কোনো অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ (যেমন; হিজবুল্লাহ) সেখানে থাকতে পারবে না। লেবানন সরকার বোফোর্ট দুর্গ এলাকাটিকেও এমন একটি মডেল জোন হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছে।

এদিকে হিজবুল্লাহর মতো প্রত্যাখ্যান না করলেও ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘মারাত্মক ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। তিনি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহ কখনোই লিটানি নদীর দক্ষিণ থেকে সরবে না এবং লেবানন সেনাবাহিনীর সেই ক্ষমতা নেই যে তারা হিজবুল্লাহকে এটি মানতে বাধ্য করবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও কিছু মিত্রদের কাছ থেকে চাপের মুখে পড়েছেন, যাঁরা মনে করছেন মার্কিন শর্ত মেনে নেতানিয়াহু দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত