Ajker Patrika

ট্রাম্পের নিশানায় ৪ দেশ

  • আবারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের।
  • মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায় চালাতে পারেন অভিযান।
  • শিগগির কিউবায় কমিউনিস্ট শাসনের পতন চান ট্রাম্প।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ০৭
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ হচ্ছে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোশ পরে বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদ। ছবি: এএফপি
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ হচ্ছে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোশ পরে বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদ। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনার পর লাতিন আমেরিকার আরও তিন দেশের প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানে সরকারের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অভিযোগ তুললেন কিউবা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুর কথা বলে আবারও ডেনমার্কের অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসনে শুধু আন্তর্জাতিক প্রথাই ভঙ্গ হয়নি; বরং এই অপহরণের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়েছে, কোনো আইন এখন কাজ করছে না।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর খনিজ সম্পদ আহরণের জোর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার জন্য এই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলেছেন প্রকাশ্যেই। বলা হয়ে থাকে, উত্তর আমেরিকার সুদূর উত্তর-পূর্বে সুমেরু অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। দ্বীপটির এ বিপুল সম্পদ অনেকের আগ্রহের জায়গা। তবে এর খনিজ সম্পদের বেশির ভাগ অব্যবহৃত অবস্থায় আছে। নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আবারও কথা বললেন তিনি। গত রোববার আবারও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু তুলে এই গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা তিনি বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য আটলান্টিকে গত রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এই এলাকা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, এলাকাটি ঘিরে রেখেছে রাশিয়া ও চীনের জাহাজগুলো।

ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরপরই হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার গ্রিনল্যান্ডের একটি ছবি প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, পুরো গ্রিনল্যান্ড ঢেকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায়। এর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘খুব শিগগির’।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ও মার্কিন প্রশাসনের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডেনমার্কসহ ইউরোপের দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনমার্কের দূত জেসপার মোলার সোয়েরেনসেন বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান আশা করি।’

এ ছাড়া ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, অনেক হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেশটি যা বলছে, তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ ইউরোপের বিভিন্ন নেতারা ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

লাতিন দেশগুলোকে হুমকি

গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় অবিশ্বাস্য এক সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় বিক্ষোভ হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নেতারা এ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা বদলের আগপর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রিত সরকার থাকবে ভেনেজুয়েলায়। এ ছাড়া কিউবা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার পর গত রোববার কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণকালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, কলম্বিয়ার অবস্থা খুব খারাপ। একজন অসুস্থ মানুষ এই দেশের প্রশাসন চালাচ্ছে। তিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। তিনি আর বেশি দিনে এই কাজ করতে পারবেন না।

এ সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি কলম্বিয়াতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবেন কি না, এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বরং আমার জন্য একটি ভালো রাস্তা।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের এই বক্তব্য খারিজ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। একসময়ের এই গেরিলা যোদ্ধা ও বামপন্থী নেতা এক্সে এক বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি আর কোনো অস্ত্র স্পর্শ না করার শপথ নিয়েছি। তবে স্বদেশের জন্য আমি আবার অস্ত্র তুলে নেব।’

রোববার কিউবার শাসনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের পতন হবে। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার সরকার পতনের কারণে কিউবার অর্থনীতিতে ধস নামবে। আর এতে সরকার পতন হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, কিউবা পতনের মুখে। দেশটির কোনো আয় নেই। তাদের সব আয় ভেনেজুয়েলা থেকে আসে, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে আসে। তারা আর কিছুই পাবে না। কিউবা আক্ষরিক অর্থেই পতনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের দোহাই দিয়ে কিউবায় সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া মেক্সিকোতে এমন অভিযান চালানোর কথা বলেছেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, তাঁর দেশে মাদক প্রবেশের অন্যতম পথ মেক্সিকো। এই মাদক আসা বন্ধ না হলে অর্থাৎ পরিস্থিতির বদল না হলে তিনি প্রয়োজনে সেখানেও সামরিক অভিযান চালাবেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউমকেও ভয়ংকর নারী বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া মেক্সিকো থেকে অপরাধ চক্রগুলো তাঁর দেশে প্রভাব বিস্তার করে। এই অপরাধী চক্রগুলোকে থামাতে চান তিনি।

ট্রাম্পের এসব আচরণ আধিপত্যবাদী বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানের কলাম লেখক নেসরিন মালিক বলেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভ্যুত্থান শুধু নিয়ম ভঙ্গ করেনি, তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো নিয়ম এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিতে হবে ভিসা বন্ড, নতুন মার্কিন নিয়ম

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

‘চাইলে বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আচরণ অনুসরণ করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন বলির পাঁঠা’

উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, যা থাকছে সফরসূচিতে

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ, আটলান্টিকে তেলের ট্যাংকার পাহারা দেবে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত