
ইরানে হামলা চালিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী অর্জন করতে চাইছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হবে। তবে যুদ্ধের পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। এ জন্য ইরানের জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ঘোষণা আসার পর ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের বিক্ষিপ্ত বক্তব্যের জেরে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে মিশ্র বার্তার পর ইরান অভিযানের পরিণতি অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে গত বছরের জুনেও হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তারা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে এমন অস্ত্র বানানোর প্রয়াস ইরানের নেই, এ কথা বারবারই বলে এসেছে দেশটি। এরপর সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনা এগিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেন ট্রাম্প। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
এই হামলা শুরুর সময় মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পও একসময় এই সুরেই কথা বলেছেন। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। হামলার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি সরাসরি ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা আপনাদের পাশে আছে অপরিসীম শক্তি ও বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে। এখনই সময় নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যতের দুয়ার উন্মুক্ত করার।’
তবে গত সোমবার আবারও অবস্থান পরিবর্তন করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, দেশটির নৌবাহিনী এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরান যে সহযোগিতা করে থাকে, সেই সক্ষমতা ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, বৃহদার্থে তাদের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর হাতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা হবে হুমকির। গত সোমবার তিনি আর ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে কোনো আহ্বান জানাননি।
এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভিন্ন কথা বলেন কংগ্রেসে। ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, মার্কিন সেনাদের ওপর ইরান বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে পারে—এমন আসন্ন হুমকির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইরানজুড়ে আগাম হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কংগ্রেসের শীর্ষ আট নেতা বা ‘গ্যাং অব এইট’কে ব্রিফিং করার পর রুবিও আরও বলেন, ‘সেখানে অবশ্যই একটি আসন্ন হুমকি ছিল। আমরা জানতাম যে ইসরায়েল যদি ইরানকে আক্রমণ করে এবং আমাদের বিশ্বাস ছিল তারা করবে, তবে ইরান সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরা বসে বসে মার খাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে পারি না। তারা হামলা চালানোর আগে যদি আমরা আগাম ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতো।’
রুবিওর এমন বক্তব্য নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর মন্তব্য প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ইরানকে আক্রমণ করার জেদ ধরে মার্কিন সেনাদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিবৃত্ত না করে উল্টো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।’ একই সুর শোনা গেছে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘তিনি (রুবিও) সরাসরি বলছেন যে ইসরায়েল আমাদের বাধ্য করায় আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লড়ছি। এর চেয়ে খারাপ কথা আর কিছু হতে পারত না।’
ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাইলেও মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ সেটাকে খানিকটা পাশে রেখেই কখা বলেছেন। তাঁর দাবি, এটা শুধু শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার যুদ্ধ নয়। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হেগসেথ দাবি করেন, ইরান আমাদের মাথায় অস্ত্র তাক করে রেখেছিল এবং মিথ্যা কথা বলে পারমাণবিক বোমা অর্জনের চেষ্টা করছিল। তাঁর ভাষায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ‘ভয়াবহ চুক্তির’ অধীনে ইরান প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল। মার্কিন এই মন্ত্রীর দাবি, এই যুদ্ধ সফল হবে। তবে কীভাবে সেই সাফল্য আসবে, সেই রোডম্যাপ বা এর বিস্তারিত তিনি জানাননি।
বিবিসির আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা একটা বিরাট জুয়া। শুধু বোমা হামলার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রায় একেবারেই অসম্ভব।

মাত্র কয়েক দিন আগেও তাদের হইহুল্লোড়, চিৎকার, চেঁচামেচি আর উচ্ছলতায় প্রাণ পেত যে পরিবেশ, সে পরিবেশ পাথরের মতো ভারী হয়ে উঠল তাদেরই নীরবতায়। নিষ্পাপ, মায়াবী মুখগুলোকে শেষ বিদায় দিতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেছেন হাজারো মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাম শহরে ১৬৫ স্কুল শিশুর জানাজায়...
২ ঘণ্টা আগে
ইরানজুড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলায় জবাব দিচ্ছে ইরান। নিজেদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোকজন সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় দেশটির মাটি ব্যবহার করতে দেবে না সরকার। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরব ও কুয়েতের পর এবার লেবাননের বৈরুতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। হামলার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
৫ ঘণ্টা আগে