ভেঙে পড়েছে কিউবা, স্মৃতি হয়েছে বিপ্লব, পুনরুত্থান ঘটেছে গির্জার

কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভেঙে পড়ছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও প্রশাসনিক কাঠামো। খাদ্যসংকট, চিকিৎসাব্যবস্থার বিপর্যয়, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং মানুষের দেশত্যাগে একসময়ের বিপ্লবী রাষ্ট্রটির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় রেশনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, আর বহু এলাকায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসছে গির্জা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো। দীর্ঘদিনের এই সংকট সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে বলে উঠে এসেছে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সরেজমিনে ঘুরে তৈরি করা দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে।
১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর কিউবায় ক্ষমতায় আসে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার। বিপ্লবের পর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতির বড় অংশ। কিন্তু কয়েক দশক পর সেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রীয় সেবার ক্রমাবনতির পাশাপাশি সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে।
পূর্ব হাভানার একটি পুরোনো গির্জায় গিয়ে এই পরিবর্তনের চিত্র দেখেছেন প্রতিবেদক। সেখানকার পুরোহিত ইভান গুয়েরা আলভারেজ জানান, বিপ্লবের পর সরকার গির্জার সঙ্গে যুক্ত কনভেন্ট, আবাসিক এলাকা ও বিদ্যালয় দখল করে নেয়। সন্ন্যাসিনীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং একটি অংশে নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান তৈরি করা হয়। একসময় গির্জাটির কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। রাষ্ট্রের দখলে থাকা ঐতিহাসিক ভবনটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে গির্জা। পুরোহিতের মতে, কিউবার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর দাবি, সরকারের বাইরে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিগুলোর একটি হলো গির্জা।
তবে কবে বা কীভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টির পদক্ষেপ দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কার্যকরভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগও সীমিত।

রেশনব্যবস্থা অকার্যকর, মানুষের নাগালের বাইরে খাদ্য
কিউবার অর্থনৈতিক দুরবস্থার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের আয় ও খাদ্যপণ্যের দামে। একসময় রাষ্ট্রীয় রেশনব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কিছু মৌলিক খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু গত আগস্টে দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদক দেশটিতে গিয়ে দেখেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে রেশন কার্ডে বরাদ্দের কোনো তথ্যই লেখা হয়নি।
দেশটির সরকারি খাতের কর্মীদের গড় মাসিক বেতন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পেসো, যা ১০ ডলারেরও কম। এই আয়ের মধ্যে চিকিৎসক ও শিক্ষকেরাও রয়েছেন। অথচ এক কার্টন ডিমের দামই কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৭০০ পেসো পর্যন্ত পৌঁছেছে। অর্থাৎ, একজন সরকারি কর্মীর মাসিক বেতনের বড় অংশ দিয়েও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ তোলাও সহজ নয়। কোনো কোনো ব্যাংকে একজন গ্রাহকের দৈনিক উত্তোলনের সীমা রাখা হয়েছে মাত্র ১ হাজার পেসো, যা দেড় ডলারেরও কম।
বিদ্যুৎ না থাকায় পূর্ব কিউবার অনেক জেলে মাছ সংরক্ষণের জন্য আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে গেছেন। তাঁরা মাছ শুকিয়ে ও লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন। রাজধানী হাভানাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। তবে পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, যানবাহন কম এবং অনেক এলাকায় ঘোড়ায় টানা গাড়িই যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম।
গত কয়েক বছরে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে চলে গেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত দেশত্যাগ করে থাকতে পারেন। এর ফলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীর সংকট আরও বেড়েছে।
দুরবস্থায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা, চিকিৎসক সংকটে গ্রামাঞ্চল
কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে। ফিদেল কাস্ত্রো স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতেন। একসময় বিদেশে চিকিৎসক পাঠিয়েও দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বৈদেশিক আয় বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে বিদেশে পাঠানো চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে বিপর্যস্ত। বহু চিকিৎসক দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কমেছে।
সান্তিয়াগো দে কিউবার উপকূলের কাছে কায়ো গ্রানমা দ্বীপে ৫৫ বছর বয়সী নার্স ক্লারা লুয়াসেসের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিবেদক। সেখানে প্রায় ৮৭০ জন বাসিন্দার পাশাপাশি আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষের চিকিৎসার দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হয়। চিকিৎসকদের দ্রুত দেশত্যাগের কারণে রোগীর সংখ্যা ও দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রটি ছিল ছোট একটি কক্ষ। সেখানে জ্বরে আক্রান্ত ১২ বছরের এক শিশুর হাতে স্যালাইনের নল লাগানো ছিল। পাশেই ত্বকের সংক্রমণে আক্রান্ত এক শিশু মায়ের সঙ্গে বসে ছিল।
লুয়াসেস জানান, প্রায় তিন মাস ধরে দ্বীপটিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর ও ত্বকের সংক্রমণ বেড়েছে। ওষুধের সংকটও নিয়মিত সমস্যা। সীমিত সম্পদ নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তাঁকে প্রায় অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অবসরে যাওয়ার সুযোগও তাঁর নেই, কারণ দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই।
দারিদ্র্য, ভিক্ষাবৃত্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগো দে কিউবায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দেখে বিস্মিত হয়েছেন প্রতিবেদক। সমুদ্রতীরে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ৭৬ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর মেয়ের। দুজনই ছিলেন অত্যন্ত শীর্ণকায়। ওই নারী জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ছেলেই ছিলেন তাঁদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
এরপর থেকে মা-মেয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করছেন এবং প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করে বিক্রির মাধ্যমে সামান্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। তাঁদের কোনো সরকারি সহায়তা নেই। তাঁদের বাসায় গিয়ে প্রতিবেদক দেখেন, মেঝেতে থাকা ছোট একটি কক্ষে ধাতব খাটের ওপর বিছানার বদলে কার্ডবোর্ড বিছিয়ে তাঁরা ঘুমান। ঘরে বিদ্যুতের বাল্বও নেই।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। একসময় কিউবায় কমিউনিস্ট সরকারের পক্ষে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজে বিপ্লব রক্ষার কমিটিগুলো সক্রিয় ছিল। কিন্তু প্রতিবেদক স্থানীয় মানুষের কাছে এসব কমিটির কথা জানতে চাইলে অনেকে হাসাহাসি করেন। সরকারের সমালোচনা করতেও তাঁদের আগের তুলনায় কম ভয় পেতে দেখা গেছে।
বারাকোয়া সমুদ্রসৈকতে এক ব্যক্তির বক্তব্যে সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। কমিউনিজম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তীব্র গালিগালাজ করেন। প্রথমে অন্যরা হাসলেও পরে ওই ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, কিউবা যেন সময়ের মধ্যে আটকে গেছে। মানুষের কোনো আশা নেই; কিউবান হিসেবে জন্ম নেওয়াই তাঁর কাছে দুঃখজনক।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই নিজেদের দুরবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেননি। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহে মার্কিন বাধার চেয়ে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব বেশি ছিল। মহামারিতে কিউবার পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদেশে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থের মূল্য ও প্রাপ্যতা কমে যায়।
একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জানান, ভেনেজুয়েলার তেল সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছাত না।

রাষ্ট্রের জায়গা নিচ্ছে গির্জা
রাষ্ট্রীয় সেবার ঘাটতি পূরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বাড়ছে। কিউবায় একসময় ক্যাথলিক ধর্মের প্রভাব ছিল ব্যাপক। বিপ্লবের পর সরকার নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অনেকে দেশত্যাগে বাধ্য হন। বিশ্বাসীদের কেউ কেউ পুনর্শিক্ষা শিবিরেও পাঠানো হয়।
কিন্তু বর্তমানে বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে ক্যাথলিক গির্জার পাশাপাশি ইভানজেলিক্যাল ও পেন্টেকোস্টাল গির্জার প্রসার ঘটছে। বারাকোয়া অঞ্চলে গত তিন দশকে অ্যাসেম্বলি অব গডস সম্প্রদায়ের গির্জার সংখ্যা দুটি থেকে বেড়ে ৪০ টিতে পৌঁছেছে বলে এক ধর্মযাজক জানিয়েছেন।
বারাকোয়ার পেন্টেকোস্টাল যাজক রাউল দে হেসুস মুনিওস মুন্ডার জানান, তাঁর মণ্ডলীতে নিয়মিত প্রায় ১ হাজার ১০০ জন সদস্য রয়েছেন। তবে সহায়তা পান আরও অনেক মানুষ। প্রতি সপ্তাহে সহযোগী যাজকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি বিভিন্ন এলাকার অসুস্থ, খাদ্যসংকটে থাকা এবং ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে—এমন মানুষের খবর নেন। এরপর তাঁদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
গত মে মাসে কিউবার জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা অনুমোদনের সময় ট্রাম্প প্রশাসন শর্ত দিয়েছিল, অর্থ বিতরণ করতে হবে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী ও মানবিক সংস্থার মাধ্যমে। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক ভূমিকা আরও বেড়েছে। তবে কিউবায় ধর্মীয় পুনর্জাগরণ শুধু বিদেশি সহায়তার ফল নয়; রাষ্ট্রীয় সেবার অবনতিও এর অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, রাজধানী হাভানার একটি ক্যাথলিক বৃদ্ধাশ্রমে দেখা গেছে, একসময় সরকারি চাকরি ও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরাও এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অনেকের সন্তান বিদেশে চলে গেছেন। রাষ্ট্র ও পরিবার—দুই দিক থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
একজন ৬৫ বছর বয়সী সাবেক সেনাসদস্য অ্যাঙ্গোলায় দুই বছর যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর বাহুতে ছিল চে গুয়েভারার উলকি, যা তিনি ১৮ বছর বয়সে করিয়েছিলেন। একসময় বিপ্লবের সমর্থক ওই ব্যক্তি এখন দেশের পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বিপ্লবের স্মৃতি আছে, নেই আগের প্রাণচাঞ্চল্য
কিউবার বর্তমান সংকটের আরেকটি দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবক্ষয়। সান্তিয়াগো শহরের ৮১ বছর বয়সী এক সংগীতশিল্পী জানান, একসময় শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে সংগীতের দল দেখা যেত। ৪৫ বছর ধরে গানের সঙ্গে যুক্ত থেকেও এখন তিনি সেই দৃশ্য আর দেখেন না।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই বলেছেন, কিউবা আগে এমন ছিল না। তাঁদের বক্তব্যে শুধু খাদ্যসংকট, অসুস্থতা ও বিদ্যুৎবিভ্রাটের কথাই উঠে আসেনি; এসেছে মানুষের ক্ষোভ, হতাশা এবং জনজীবন থেকে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যাওয়ার কথাও।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনটির শেষাংশে উঠে এসেছে সান্তিয়াগো শহরের সান্তা ইফিজেনিয়া সমাধিক্ষেত্রের চিত্র। সেখানে ফিদেল কাস্ত্রোর দেহভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে। পুরো দেশজুড়ে অবহেলা ও ভাঙাচোরা পরিবেশের বিপরীতে সমাধিক্ষেত্রটি ছিল পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং সুপরিচর্যিত। সেখানে নিয়মিত সামরিক কায়দায় প্রহরী বদল করা হয়। কিউবার জাতীয় বীর হোসে মার্তির সমাধিসৌধের সামনে সেনাসদস্যদের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজও চলে।
সুশৃঙ্খল সেই আয়োজন দেখে মুহূর্তের জন্য মনে হতে পারে, বিপ্লবের স্বপ্ন এখনো অটুট। কিন্তু সমাধিক্ষেত্রের বাইরে বাতাসে ভেসে আসে পোড়া আবর্জনার তীব্র গন্ধ। সেই গন্ধই যেন কিউবার বর্তমান বাস্তবতার প্রতীক—একদিকে বিপ্লবের স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষুধা, অসুস্থতা, অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান হতাশা।









