
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ও পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ও দর–কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তেহরান নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার ব্যবস্থা গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, কারাকাসে পৌঁছেছেন মার্কিন দূত।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও উত্তেজনা বাড়লেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘কৃত্রিম গণমাধ্যম যুদ্ধের পরিবেশের বিপরীতে, আলোচনার জন্য একটি কাঠামো গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।’
তবে আলোচনার কথিত এই কাঠামো বা রূপরেখা সম্পর্কে লারিজানির পোস্টে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি এমন এক সময় এই কথা জানালেন, যার কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে ইরান একটি চুক্তি করতে চায় বলে তিনি মনে করেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, আর আমরা দেখব কিছু করা যায় কি না; না হলে কী হয়, সেটাও দেখা যাবে... আমাদের একটি বড় নৌবহর সেখানে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আলোচনা করছে।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এর পেছনে রয়েছে ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বারবার সামরিক হামলার হুমকি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য তার চাপ। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দিকে একটি নৌ ‘বহর’ বা ‘আর্মাডা’ পাঠিয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী। এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে শর্ত একটাই—ট্রাম্পকে আগে ইরানের ওপর হামলার হুমকি বন্ধ করতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করলে যুক্তরাষ্ট্র যে জাহাজগুলো পাঠাচ্ছে, সেগুলো প্রয়োজনে ‘সহিংসতা’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
এদিকে ভেনেজুয়েলার জন্য মনোনীত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূত লরা ডোগু গতকাল শনিবার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছেন। ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফর হচ্ছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল জানান, ডোগুর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো ‘দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা’ এবং ‘কূটনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো সমাধান করা।’
ডোগু আগে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন—তিনি ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন এবং ‘আমার দল ও আমি কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় এবং সেখানে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের’ দিকে অগ্রসর হতে চান।
দুই দেশ এরই মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার আওতায় সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলারের ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হবে। এ ছাড়া শুক্রবার দেলসি রদ্রিগুয়েজ দেশটির শত শত বন্দীর জন্য একটি প্রস্তাবিত ‘ক্ষমা আইন’ ঘোষণার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কারাকাসে অবস্থিত কুখ্যাত হেলিকোইদে আটক কেন্দ্রকে একটি ক্রীড়া ও সামাজিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সরকারকে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো থেকে বিরত রাখবে—এমন রক্ষাকবচ ছাড়াই।
১৭ মিনিট আগে
গত ৩০ জানুয়ারি রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ইরানিদের মধ্যে এক চাপা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুজব ছড়িয়ে যায়, যেকোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাবে। আর এই আশঙ্কা এখনো ইরানের জনগণের মধ্যে রয়ে গেছে। যদিও আলোচনার ব্যবস্থা চলছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬ শিশুসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার এক দিন আগে এই হামলাগুলো চালানো হলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে প্রায় ২৫০ জন চীনা উৎপাদক ও ই-কমার্স বিক্রেতার একটি উইচ্যাট গ্রুপে সবার মনোবল ছিল দুর্বল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত যৌথ শুল্কহার দাঁড়িয়েছিল ১৪৫ শতাংশে। গ্রুপের এক সদস্য লেখেন, এই তো শেষ। যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। আরেকজন মন্তব্য করেন,
১১ ঘণ্টা আগে