Ajker Patrika

পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৪, আহত অর্ধশতাধিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: দ্য ডনের সৌজন্যে
ছবি: দ্য ডনের সৌজন্যে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোরে পাঞ্জাবের সারগোধা জেলায় একটি ট্রাক খালে পড়ে গেলে ১৪ জন মারা যান। অন্যদিকে বেলুচিস্তানের ওরমারা মহকুমার কাছে একটি যাত্রীবাহী কোচ উল্টে ১০ জন নিহত হন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের সারগোধা জেলার কোট মোমিন মহকুমায় আজ ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গালাপুর বাংলা সেতু থেকে শুকনো খালে পড়ে যায়। এতে ছয় শিশুসহ ১৪ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ-১১২২।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা সবাই ইসলামাবাদ থেকে ফয়সালাবাদে একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

ঘন কুয়াশার কারণে মোটরওয়ে বন্ধ থাকায় গাড়িটি বিকল্প রাস্তা হিসেবে স্থানীয় সড়ক ব্যবহার করছিল।

রেসকিউ-১১২২-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাকটি সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়।’

খালটি শুকনো থাকলেও ট্রাকটি উল্টে গেলে অনেক যাত্রী গাড়ির নিচে আটকা পড়েন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোট মোমিন সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে মহকুমার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে পাঞ্জাবজুড়ে প্রায়ই সড়ক ও মোটরওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার এম-১, এম-২, এম-৩, এম-৪ ও এম-১১ মোটরওয়ের বিভিন্ন অংশ বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড মোটরওয়ে পুলিশ (এনএইচএমপি)। এর আগে মঙ্গলবার কুয়াশাজনিত একাধিক দুর্ঘটনায় পাঞ্জাবে ১০ জন নিহত ও ২১ জন আহত হন।

এদিকে বেলুচিস্তানের মাকরান কোস্টাল হাইওয়েতে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গওয়াদরের ওরমারা মহকুমার হুদ্দ গথ এলাকায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী কোচ উল্টে যায়।

স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন কন্যাশিশুও রয়েছে। নিহতদের মরদেহ করাচিতে নেওয়ার জন্য একটি মোবাইল মর্গ পাঠানো হয়েছে।

কোস্টাল হাইওয়ে পুলিশের এসপি আসলাম বাঙ্গুলজাই জানান, কোচটি করাচি থেকে জিওয়ানি যাচ্ছিল। নিহতরা সবাই শ্রমিক ছিলেন এবং সিন্ধুর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের প্রথমে ওরমারার পিএনএস দারমান জাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাকিস্তানে মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানাকেই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে পাঞ্জাবের তালাগাং জেলায় একটি বাস গভীর খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত ও ২৪ জন আহত হন। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর ঝাং-ফয়সালাবাদ সড়কে বাস ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হন। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঞ্জাব হাইওয়ে প্যাট্রলের চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত