
বেশ কয়েক দিন আগে গাজা সমুদ্রতীরের শরণার্থীশিবির থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বলেছিল ইসরায়েলি বাহিনী; বলেছিল দক্ষিণই হবে নিরাপদ আশ্রয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর আশ্বাসে একরকম হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল ১৮ বছর বয়সী দিমা আল্লামদানির পরিবার; ভেবেছিল এবার বুঝি অবিরত বিমান হামলার থেকে রক্ষা পাবে।
কিন্তু সেই ভরসার কোনো জায়গা রাখেনি ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে আশ্রয় নিলেও দিমার পরিবারকে কেড়ে নিয়েছে বিমান হামলা। মর্গে শত শত লাশের মধ্যে খুঁজছে সে প্রিয় স্বজনদের, যেন তার জীবন টিকে আছে শুধু স্বজনদের লাশ শনাক্ত করার জন্য।
আল্লামদানি বলছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় মা-বাবা, সাত ভাই-বোন এবং চাচার পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়েছে। তার স্পষ্ট ভাষ্য, ‘তারা আমাদের বলেছে, এ জায়গা ছেড়ে খান ইউনিসে চলে যাও। কারণ, তা নিরাপদ। তারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ওপর বোমা হামলা করেছে।’
লামদানি জানায়, তার স্বজনেরা দুটি গাড়ি নিয়ে গাজা ছেড়ে যাচ্ছিল। ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় অবিরত বোমা হামলা চালাতে থাকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লামদানি বলেছে, তার পরিবার খান ইউনিসের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। ‘তখন ভোর সাড়ে ৪টা। আমি জেগে ছিলাম আর আমার চাচির সঙ্গে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎই আমার চারপাশে সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে গেল। আমার চারপাশে সবাই চিৎকার করছিল, তাই আমিও চিৎকার করছিলাম।’
লামদানির মুখের এক পাশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। ১৭ অক্টোবর মর্গে পরিবারের সদস্যদের লাশ শনাক্ত করার পর সে জানতে পারে, শুধু তার ভাই ও দুই ছোট চাচাতো ভাই বেঁচে আছে।
‘এটা একটা দুঃস্বপ্ন। এটা কখনোই আমার স্মৃতি থেকে মুছবে না। আমার ১৬ বছরের একটি বোন ছিল। তার মৃতদেহ মুড়িয়ে নেওয়ার সময় তারা সাদা খাতায় আমার নাম লিখেছিল। তাঁরা ভেবেছিল এটা আমি।’
মিসর থেকে আসা ত্রাণের ট্রাক
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে এবং গাজায় হামাস বাহিনীর ঘাঁটিতে অবস্থান না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।’
তিনি বলেন, ‘তবে শেষ পর্যন্ত হামাস বাহিনী গাজা উপত্যকার বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে মিশে যায়। তাই যেখানেই হামাস বাহিনী দেখা যাবে জঙ্গি নির্মূল করার জন্য সেখানেই আইডিএফ হামলা করবে। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি হ্রাস করার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলায় ৫ হাজারের বেশি নিহত ও ১৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছে।
৭ অক্টোবরের পর গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে ফেলে ইসরায়েল। ২৩ লাখ বাসিন্দার আবাসস্থল গাজায় এখন পানি, খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি শেষ হয়ে আসছে।
গতকাল সোমবার ত্রাণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, গাজার উদ্দেশে মিসর থেকে তৃতীয় দফায় ত্রাণের ট্রাক রাফাহ সীমান্ত পার হয়েছে। রাফাহ হলো গাজার প্রধান ক্রসিং, যা ইসরায়েল সীমান্তে নেই।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছে, গাজার চাহিদা পূরণ করার জন্য দৈনিক প্রায় ১০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন। গত শনিবার ও রোববার ৩৪ ট্রাক ত্রাণ এসেছিল।
গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেত্তিন কোচা বলেন, গতকাল সোমবার তুরস্ক গাজার উদ্দেশে দুই প্লেন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং আরও দুই প্লেন পাঠানো হবে।
হামাসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে, গাজায় আরও সহায়তা প্রয়োজন। ‘গত দুদিনে গাজা উপত্যকায় সীমিত পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া বর্বর আগ্রাসন এবং চলমান অবরোধের সময় আমাদের জনগণের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার জবাব দেয় না।’
খান ইউনিসে জাতিসংঘের এক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন স্ত্রী, আট সন্তানসহ নাসের আবু আমের। তাঁরা খাবার ও পানির জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন বলে জানান তিনি।
আমের বলেন, ‘কিসের সহায়তা? তাঁরা আমাদের ২টি করে কৌটাজাত খাবার দিচ্ছে, কিসের জন্য? বাচ্চাদের সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের জন্য?’

বেশ কয়েক দিন আগে গাজা সমুদ্রতীরের শরণার্থীশিবির থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বলেছিল ইসরায়েলি বাহিনী; বলেছিল দক্ষিণই হবে নিরাপদ আশ্রয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর আশ্বাসে একরকম হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল ১৮ বছর বয়সী দিমা আল্লামদানির পরিবার; ভেবেছিল এবার বুঝি অবিরত বিমান হামলার থেকে রক্ষা পাবে।
কিন্তু সেই ভরসার কোনো জায়গা রাখেনি ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে আশ্রয় নিলেও দিমার পরিবারকে কেড়ে নিয়েছে বিমান হামলা। মর্গে শত শত লাশের মধ্যে খুঁজছে সে প্রিয় স্বজনদের, যেন তার জীবন টিকে আছে শুধু স্বজনদের লাশ শনাক্ত করার জন্য।
আল্লামদানি বলছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় মা-বাবা, সাত ভাই-বোন এবং চাচার পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়েছে। তার স্পষ্ট ভাষ্য, ‘তারা আমাদের বলেছে, এ জায়গা ছেড়ে খান ইউনিসে চলে যাও। কারণ, তা নিরাপদ। তারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ওপর বোমা হামলা করেছে।’
লামদানি জানায়, তার স্বজনেরা দুটি গাড়ি নিয়ে গাজা ছেড়ে যাচ্ছিল। ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় অবিরত বোমা হামলা চালাতে থাকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লামদানি বলেছে, তার পরিবার খান ইউনিসের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। ‘তখন ভোর সাড়ে ৪টা। আমি জেগে ছিলাম আর আমার চাচির সঙ্গে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎই আমার চারপাশে সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে গেল। আমার চারপাশে সবাই চিৎকার করছিল, তাই আমিও চিৎকার করছিলাম।’
লামদানির মুখের এক পাশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। ১৭ অক্টোবর মর্গে পরিবারের সদস্যদের লাশ শনাক্ত করার পর সে জানতে পারে, শুধু তার ভাই ও দুই ছোট চাচাতো ভাই বেঁচে আছে।
‘এটা একটা দুঃস্বপ্ন। এটা কখনোই আমার স্মৃতি থেকে মুছবে না। আমার ১৬ বছরের একটি বোন ছিল। তার মৃতদেহ মুড়িয়ে নেওয়ার সময় তারা সাদা খাতায় আমার নাম লিখেছিল। তাঁরা ভেবেছিল এটা আমি।’
মিসর থেকে আসা ত্রাণের ট্রাক
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে এবং গাজায় হামাস বাহিনীর ঘাঁটিতে অবস্থান না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।’
তিনি বলেন, ‘তবে শেষ পর্যন্ত হামাস বাহিনী গাজা উপত্যকার বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে মিশে যায়। তাই যেখানেই হামাস বাহিনী দেখা যাবে জঙ্গি নির্মূল করার জন্য সেখানেই আইডিএফ হামলা করবে। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি হ্রাস করার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলায় ৫ হাজারের বেশি নিহত ও ১৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছে।
৭ অক্টোবরের পর গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে ফেলে ইসরায়েল। ২৩ লাখ বাসিন্দার আবাসস্থল গাজায় এখন পানি, খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি শেষ হয়ে আসছে।
গতকাল সোমবার ত্রাণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, গাজার উদ্দেশে মিসর থেকে তৃতীয় দফায় ত্রাণের ট্রাক রাফাহ সীমান্ত পার হয়েছে। রাফাহ হলো গাজার প্রধান ক্রসিং, যা ইসরায়েল সীমান্তে নেই।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছে, গাজার চাহিদা পূরণ করার জন্য দৈনিক প্রায় ১০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন। গত শনিবার ও রোববার ৩৪ ট্রাক ত্রাণ এসেছিল।
গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেত্তিন কোচা বলেন, গতকাল সোমবার তুরস্ক গাজার উদ্দেশে দুই প্লেন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং আরও দুই প্লেন পাঠানো হবে।
হামাসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে, গাজায় আরও সহায়তা প্রয়োজন। ‘গত দুদিনে গাজা উপত্যকায় সীমিত পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া বর্বর আগ্রাসন এবং চলমান অবরোধের সময় আমাদের জনগণের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার জবাব দেয় না।’
খান ইউনিসে জাতিসংঘের এক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন স্ত্রী, আট সন্তানসহ নাসের আবু আমের। তাঁরা খাবার ও পানির জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন বলে জানান তিনি।
আমের বলেন, ‘কিসের সহায়তা? তাঁরা আমাদের ২টি করে কৌটাজাত খাবার দিচ্ছে, কিসের জন্য? বাচ্চাদের সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের জন্য?’

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
১ ঘণ্টা আগে
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
১ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৪ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
৪ ঘণ্টা আগে