Ajker Patrika

ফের তেহরান যাচ্ছেন আসিম মুনির, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের সক্ষমতা পাকিস্তানের আছে কি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফের তেহরান যাচ্ছেন আসিম মুনির, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের সক্ষমতা পাকিস্তানের আছে কি
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আজ সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরান সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছর এটি মুনিরের তৃতীয় ইরান সফর। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুনিরের এবারের সফর হচ্ছে।

পাকিস্তানের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সফরের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস বা আইএসপিআর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সফরটি নিয়ে আল জাজিরার মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। বিষয়টি আরও অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে কারণ সফরের ঘোষণা পাকিস্তান নয়, তেহরান থেকে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তানের আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে যাবে। তেহরানে সাংবাদিকদের বাঘাই বলেন, সফরকালে মুনির ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের আগে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মুনিরের দুবার ফোনে কথা হয়েছে। বুধবার ও শনিবার তাদের মধ্যে ওই দুই ফোনালাপ হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তা ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম এশিয়ায় ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা’ জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

চলতি বছরে তৃতীয় সফর

চলতি বছরে মুনির প্রথমবার তেহরান সফর করেন এপ্রিলে। এর কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষ হয়েছিল কোনো সমঝোতা ছাড়াই। ওই বৈঠক ছিল চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি আলোচনা। মে মাসেও তিনি আবার ইরান সফর করেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় ‘সামান্য অগ্রগতি’ হয়েছে।

মুনিরের এবারের সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বা এমওইউকে ঘিরে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তা প্রায় থেমে গেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফা নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুত করছে।

এবারের আলোচনায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এ মাসে ঘোষিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিও উঠতে পারে। মক্কায় অনুষ্ঠিত ওই চুক্তির অনুষ্ঠানে মুনির উপস্থিত ছিলেন। ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের বিষয়টিও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুনিরের আলোচনায় আসতে পারে। হুতিদের হামলা বারবার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং এর ফলে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতিরা ইরানের কাছ থেকে সমর্থন পায় বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।

পাকিস্তানের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গত ১১ আগস্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হুতি বাহিনীর হামলায় তিন পাকিস্তানি নাবিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ওই সময় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন এবং এর ‘তীব্র নিন্দা’ জানান।

ইরানের নতুন সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মুনিরের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আলোচনাটি অনুসরণকারী ইরানি সাংবাদিক রেজা আফজাল সামির। আল জাজিরাকে সামির বলেন, ইরানের নতুন সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মুনিরের অবস্থান বেশ শক্ত। তিনি ইরানের নতুন আইআরজিসি প্রধান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং নতুন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

এই কর্মকর্তারা হলেন যথাক্রমে মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদি, মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এবং মোহসেন রেজায়ি। তাদের সবাইকে চলতি মাসের শুরুতে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সমঝোতা

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ এক সময়ে মুনিরের এই সফর হচ্ছে। ছয় মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। গত ১৭ জুন পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগস্টের মাঝামাঝি সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো পক্ষই তা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়নি।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, বিদেশে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং সামরিক হুমকি বন্ধ করতে হবে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত পূরণ করেনি।

মুনিরের সফরের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করবেন। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেসেন্ট বলেছেন, চলমান নৌ অবরোধের পাশাপাশি এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো তেহরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে।

মুনিরের সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গত এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

স্থবির হয়ে থাকা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে আবার সচল করতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি চলতি মাসের শুরুতে তেহরান সফর করেছিলেন। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য জায়গাতেও উত্তেজনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে। আবুধাবির দাবি, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার শিকার হওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মুনিরের সফর দেখাচ্ছে যে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীরা এখনো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা আবার শুরু করার চেষ্টা ছেড়ে দেয়নি। একই সঙ্গে তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের ভারসাম্যও রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি, যিনি মুনিরের মতোই সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, মঙ্গলবার তেহরান সফর করবেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসলামাবাদ কতটা প্রভাবশালী

মুনিরের সফর বাস্তবে কতটা ফল দিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কারণ পাকিস্তান যে সমঝোতা করাতে সাহায্য করবে, সেটি দুই পক্ষকে মানতে বাধ্য করার ক্ষমতা ইসলামাবাদের সীমিত। ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবার ইনস্টিটিউটের প্রধান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামার চিমা বলেন, দুই পক্ষই পাকিস্তানকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখে, যে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই আলোচনায় সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের নিজের জন্য এই সমঝোতা থেকে পাওয়ার মতো বিশেষ কিছু নেই। ফলে পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে দেশটি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ বা ‘অফ-র্যাম্প’ সব পক্ষের সামনে তুলে ধরতে পারে।

তেহরানের পারস্য উপসাগরীয় স্টাডিজ গ্রুপের পরিচালক জাভাদ হেইরান-নিয়া অবশ্য মনে করেন, পাকিস্তানের এই তৎপরতার পেছনে নিজেদের স্বার্থও কাজ করছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, উত্তেজনা বেড়ে গেলে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সও অস্থিতিশীলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এসব কারণে পাকিস্তান পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে উদ্বিগ্ন।

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি দুই তারকা জেনারেল ও প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ জাহিদ মাহমুদ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, মুনির এখনো কার্যত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের জন্য দেওয়া সমঝোতার পথ বা ‘অফ-র্যাম্প’ বহন করছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, পাকিস্তান এখনো দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যম।

তবে সব বিশ্লেষক পাকিস্তানের ভূমিকা এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন না। লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, পাকিস্তান নয়, কাতারই এখনো মূল যোগাযোগের মাধ্যম। তিনি বলেন, কাতার রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান সেতু হিসেবেই রয়েছে। ক্রিগের মতে, মুনিরের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তিনি মূলত এমন একটি ‘সামরিক-টু-সামরিক’ যোগাযোগের পথ তৈরি করছেন, যা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। ইরানে যুদ্ধ ও শান্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসি এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মুনির কী করতে পারবেন, আর কী পারবেন না

ইরানি সাংবাদিক সামির মনে করেন, পাকিস্তান ইরানের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে, কারণ দেশটির বাস্তবে কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান কেন পাকিস্তানের কথা শুনবে? কারণ পাকিস্তানের এখনো এমন প্রভাব রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাস্তব অর্থে শান্তির জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। শুধু নীরব থেকে কিছু না করার চেয়ে এটি অনেক বেশি কার্যকর।

সামির ধারণা, মুনিরের সফরের পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনাতেও দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মুনির যদি ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে সফল হন, তাহলে এর পরপরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

ক্রিগ অবশ্য মুনিরের সফর থেকে কী অর্জন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আরও সতর্ক। তাঁর মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হবে যদি নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট একটি উত্তেজনা-নিয়ন্ত্রণ বা সংঘাত এড়ানোর ব্যবস্থা মেনে চলবে এবং কাতার যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ আদায় করতে পারে, তাহলে ইরান ইয়েমেন বা ইরাকের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে।

ক্রিগ বলেন, তা না হলে যোগাযোগের সেতুটি খোলা থাকবে ঠিকই, কিন্তু দুই পক্ষ আবারও চাপ প্রয়োগ ও পাল্টা চাপের নতুন এক চক্রের দিকে এগিয়ে যাবে।

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল জাহিদ মাহমুদ অবশ্য এ বিষয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, দুই পক্ষের জন্যই তাদের সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথে পাকিস্তানই কার্যত একমাত্র ‘এক্সিট কার্ড’।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত