Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের ‘এন্ডগেম’ সামনে, সোমবার শুরু হচ্ছে ‘সবচেয়ে বড়’ অর্থনৈতিক ডে–ডি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধের ‘এন্ডগেম’ সামনে, সোমবার শুরু হচ্ছে ‘সবচেয়ে বড়’ অর্থনৈতিক ডে–ডি
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: এএফপি

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, সামনে আসছে ‘অর্থনৈতিক ডি–ডে।’ ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেশটিকে একঘরে করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত ও কঠোর জবাব দেবেন বলেও সতর্ক করেছেন বেসেন্ট।

গতকাল রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইরানের জন্য অর্থনৈতিক ডি-ডে আসছে।’ একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার পরিকল্পিত সংবাদ সম্মেলনের এক দিন আগে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট লিখেছেন, ‘এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছি। ভোরের সঙ্গে শুরু হবে এক অর্থনৈতিক ডি-ডে—কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বোঝা উচিত, আমাদের লক্ষ্য হলো স্বৈরাচারী এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বা জীবনধারা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, যতক্ষণ না তেহরান সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে।’

বেসেন্টের এই বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিএনএন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টায় বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।

বেসেন্টের এই মতামতধর্মী লেখায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও প্রতিফলন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে এক ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’র হুমকি দিয়েছিলেন। তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেসেন্ট ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ‘ইরানের সহযোগীরা দেশটির তেল কিনছে এবং পরিবহন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা সমুদ্রপথে জ্বালানি স্থানান্তর এবং তাদের ব্যাংকগুলোর অবৈধ ব্যবহারের দিকে চোখ বন্ধ করে রাখছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার প্রকৃত মাত্রাও গোপন করছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, এসব দেশ মনে করছে এই শাসনব্যবস্থাকে সন্তুষ্ট রাখাই নিরাপদ পথ। কিন্তু তাদের উচিত হবে এই শাসনকে টিকিয়ে রাখার পরিণতি কী হতে পারে, তা বিবেচনা করা।’ বেসেন্ট আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান যদি সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘দ্রুত এবং দৃঢ়ভাবে’ জবাব দেবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত