Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন-জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আঘাত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৯: ১৩
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন-জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আঘাত
ইসরায়েলি ভূখণ্ডে এক ঘণ্টায় পাঁচ দফা হামলা চালিয়েছে ইরান। ছবি: এএফফি

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসির ভাষ্য—যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। ইরান এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে ওই হামলায় ঠিক কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী (অ্যারোস্পেস ফোর্স) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটির দিকে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। যদিও এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, জর্ডানের ওই হামলা ছিল একটি বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর ঘাঁটিগুলোর মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবের কথা জানিয়েছে। কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘শত্রুভাবাপন্ন মহাকাশীয় লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়া নিশ্চিত করেছে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যে ঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি।

খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যৌথভাবে শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করে অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে আরও তীব্র ও বিস্তৃত আক্রমণ পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নতুন হামলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসিও পৃথক বিবৃতিতে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘চূর্ণকারী ও সিদ্ধান্তমূলক’ প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

সবশেষে আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে শত্রুপক্ষের ‘অসাধু পদক্ষেপের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিকে ড্রোন হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং সংঘাত এখনো অব্যাহত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত