Ajker Patrika

যুদ্ধবিরতি আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৪১
যুদ্ধবিরতি আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
ফাইল ছবি

একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধানের লক্ষ্যে কারিগরি আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা করছেন বলে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, এই ইস্যুগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে তা দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী ধাপের আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনও নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো এতে সম্মত হয়নি বলে আলোচনা সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আলোচনার সঙ্গে পরিচিত অন্য একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই পুনরায় যুদ্ধে ফিরে যেতে চায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মঙ্গলবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ ‘শেষের পথে’।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে দেশটির (ইরান) সামরিক বাহিনী এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান ইস্যুগুলো সমাধান করা মোটেও সহজ হবে না। ইরান দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে বলছে, বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের আছে। বিপরীতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য তাদের এই কাজে বাধা দেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও বলেছে, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে অথবা ধ্বংস করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ‘বাতিল করা যাবে না’, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্তর এবং ধরন ‘আলোচনা সাপেক্ষ’।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট, যদিও তারা আগে বলেছিল যে তারা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবে। ইসরায়েলি সরকারের ধারণা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে তাদের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আরও বাড়াবে বলে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে আলোচনা চললেও বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ শুরু করেছে। ইরান এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে, এটি ৭ এপ্রিল সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন হতে পারে। ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন সংঘাত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাক্ষাৎ করেন। তবে সেই আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত