Ajker Patrika

আকাশসীমার বেশির ভাগই কেন বন্ধ করল ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ০৮
আকাশসীমার বেশির ভাগই কেন বন্ধ করল ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার একটি অংশ। ছবি: এএফপি

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার পাইলটদের জন্য এক অস্বাভাবিক সরকারি নোটিশ (নোটিশ ফর এয়ারম্যান বা নোটাম) জারি করে। সেখানে দেশের আকাশসীমার বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মূলত, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মহড়া পরিচালনার জন্য এই আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, নোটিশে বলা হয়—আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মহড়া পরিচালনার জন্য এই আকাশসীমা বন্ধ রাখা হবে। সামরিক তৎপরতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে সম্পূর্ণভাবে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেক সংস্থা তাদের ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন শুরু করে দেয় এই ঘোষণার পরপরই।

ইরানের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান পরিচালনাকারীদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি বিমান সংস্থাগুলোকে ওই এলাকা বা এর আশপাশ দিয়ে উড়ার সময় ‘উচ্চতর মাত্রার সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, সমন্বয়হীন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে বেসামরিক উড়োজাহাজের পথ মারাত্মকভাবে বিপদের মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে আকাশসীমা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই বন্ধ ঘোষণাকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। এই মহড়া এমন এক সময়ে হলো যখন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান থেকে কোনো হুমকি এলে তা প্রতিহত করতে তিনি ভারত মহাসাগরে থাকা দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং সেখানে থাকা কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না।

কেবল তাই নয়, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে—তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের নবগঠিত বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভায় তিনি এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরবর্তী ধাপে’ অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসির সাবেক ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস ভবনে (যা বর্তমানে ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা হয়েছে) আয়োজিত এই সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি আছে। তবে আমরা হয়তো পরিস্থিতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাধ্য হব।’

ট্রাম্প জানান, তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা ঐতিহাসিকভাবেই সহজ নয়।

গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে পরে জানা যায়, এসব হামলায় ইরানের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পারমাণবিক কার্যক্রম কিছুদিন ব্যাহত হলেও পুনরায় তারা এটি শুরু করে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তিও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড রণতরি মোতায়েন করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতেন না: আব্দুল মোমেন

তৃতীয় মাত্রার জিল্লুরের সহধর্মিণী পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিচালনার লাইসেন্স পেল সাবেক উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান

মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

দুর্নীতি করলে ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না, আজও একজনকে বিদায় দিয়েছি: শিক্ষামন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত