Ajker Patrika

গাজা পুনর্গঠনে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের, স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনে সম্মতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ১৭
গাজা পুনর্গঠনে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের, স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনে সম্মতি
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ইসরায়েল এখনো তা লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে। ছবি: আনাদোলু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদের প্রথম সভায় জানিয়েছেন, ৯টি সদস্যদেশ গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন তহবিলে ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনে সম্মত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডের সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ড অব পিসে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। তবে এই অর্থ ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রাথমিক কিস্তির টাকা সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, ‘ব্যয় করা প্রতিটি ডলার এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং একটি নতুন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।’ তিনি যোগ করেন, ‘বোর্ড অব পিস দেখিয়ে দিচ্ছে যে কীভাবে এই ঘরের মধ্যেই একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।’

প্রতিশ্রুত এই অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি খুবই সামান্য।

প্রস্তাবিত স্থিতিশীলতা বাহিনী

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিসর এবং জর্ডান পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, এই শান্তি প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে তাঁর দেশ ৮ হাজার পর্যন্ত সৈন্য সরবরাহ করবে।

একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে এবং একজন ইন্দোনেশীয় ডেপুটি কমান্ডারের অধীনে এই বাহিনী প্রথমে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহর থেকে কাজ শুরু করবে। তাদের লক্ষ্য হলো একটি নতুন পুলিশ বাহিনী গঠন করা, যেখানে শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ২০ হাজার সৈন্য থাকবে।

হামাসকে নিরস্ত্র করা ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ইসরায়েল গাজায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাওয়ায় গোষ্ঠীটি অস্ত্র সমর্পণে অনীহা প্রকাশ করেছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীকে অবশ্যই ‘যুদ্ধবিরতি তদারকি করতে হবে এবং ইসরায়েলি দখলদারত্বের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।’ তিনি সরাসরি প্রতিশ্রুতি না দিলেও জানান, নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে।

উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ও সমালোচনা

ট্রাম্প গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম এই বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে অক্টোবরের ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে বোর্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ট্রাম্প এখন এটিকে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংঘাত মোকাবিলায় আরও উচ্চাভিলাষী সংস্থা হিসেবে দেখতে চান।

বোর্ডটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ, এতে ইসরায়েলি প্রতিনিধি থাকলেও কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রাখা হয়নি। গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিরা কেবল প্রতিশ্রুতির বদলে বাস্তব সমাধান দেখতে চায়। তিনি বলেন, ‘পুনর্গঠন বা শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতে এ ধরনের সম্মেলনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ফান্ডের প্রয়োজন থাকলেও তা দিতে দেরি হয়েছে অথবা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

হানি মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, ‘ফিলিস্তিনিরা এটা আর দেখতে চায় না; তারা চায় না যে বোর্ড অব পিস কেবল সংকট ব্যবস্থাপনার আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হোক। তারা ফিলিস্তিনি সমস্যার একটি বাস্তব সমাধান চায়।’

বৃহস্পতিবারের সভায় ৪০টির বেশি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের কর্মকর্তাদের পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ এক ডজনের বেশি দেশ বোর্ডের সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক হিসেবে এতে অংশ নিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত