Ajker Patrika

ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০: ২৩
ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত
ক্যাপ: ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একটি রিফুয়েলিং বিমান ভূপাতিত হয়েছে। ছবি: এক্স

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তারা দাবি করেছে, এটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষীয় হামলায় বিধ্বস্ত হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, পশ্চিম ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিরোধ ফ্রন্টের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে একটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হামলার সময় এটি একটি ‘আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানে’ জ্বালানি সরবরাহ করছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলায় ছয়জন ক্রু সদস্য মারা গেছেন।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ‘দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমা রক্ষায়’ কেসি-১৩৫ বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে বোয়িংয়ের তৈরি কেসি·১৩৫ বিমানটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি দূরপাল্লার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মার্কিন বিমানবাহিনীর মতে, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে সচল থাকা এই বিমানগুলোতে সাধারণত তিনজন ক্রু থাকে—একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর (যিনি অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেন)।

যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কেসি-১৩৫ বিমানটি হারানোর বিষয়ে অবগত আছে, তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে এই ঘটনা কোনো শত্রুপক্ষ বা ভুলবশত নিজেদের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) হামলায় ঘটেনি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এই অঞ্চলে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ৬ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত