
দখলদার ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তাঁর দেশের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। যাতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের যে সমর্থন, তা যেন ভেঙে পড়ে এবং ওয়াশিংটন-তেল আবিব জোট দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব দেশের মধ্যে পাকিস্তানও আছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস ওভারটাইম’ নামক একটি অনুষ্ঠানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি দেশ মূলত ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বট বাহিনী বা বট ফার্মের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রভাবিত করেছে, যেন আমেরিকার জনগণের ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি ভেঙে যায়, যেন আমেরিকা-ইসরায়েল জোট দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ তারা মনে করে, সেটাই তাদের স্বার্থের পক্ষে যায়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে এই কাজ হচ্ছে সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আর তারা খুব কৌশলে কাজটা করে। যেমন ধরা যাক—আপনি দেখবেন, “আমি একজন খাঁটি টেক্সান। আমি সব সময় ইসরায়েলকে সমর্থন করেছি। কিন্তু তারা এখন যা করছে, আমি সেটা সহ্য করতে পারছি না। আমি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছি।” এরপর আপনি সেই ঠিকানা অনুসরণ করে দেখবেন, সেটি আসলে পাকিস্তানের মাটির গভীরের কোনো স্থান থেকে পরিচালিত হচ্ছে।’
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবং এটিই আমাদের ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা যখন সাতটি যুদ্ধক্ষেত্রে, সাতটি ফ্রন্টে সরাসরি সামরিক লড়াই চালাচ্ছিলাম, তখন অষ্টম ফ্রন্টে আমরা পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেটি ছিল গণমাধ্যমের যুদ্ধ, আর প্রকৃতপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুদ্ধ।’
এই লড়াইকে নেতানিয়াহু তুলনা করেন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমানের আক্রমণের সঙ্গে, যেখানে তাঁর দেশ সেই আক্রমণ মোকাবিলা করছে অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর হামলার মুখে পোলিশদের প্রতিরোধের স্মৃতি স্মরণ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আর আপনি জানেন, আমরা এত ব্যস্ত ছিলাম যে আমরা এটা খেয়ালই করিনি। তারা যখন আমাদের ওপর এফ-৩৫-এর সমতুল্য শক্তি দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছি যেন পোল্যান্ডের অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে। এটা যেন প্রায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই ঘটনার মতোই।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, আমাদের ওই ফ্রন্টেও লড়াইয়ে নামতে হবে। তবে সেন্সরশিপের মাধ্যমে নয়, বরং এমন উপায় খুঁজে বের করে, যেগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য গ্রহণযোগ্য।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনগুলোর মতো কাজ করতে পারি না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ আমেরিকানদের হৃদয় ও মন জয় করার এই লড়াইয়ে টিকে থাকার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতেই হবে। আর এটা আমাদের করতেই হবে, অবশ্যই। আমাদের একটা সমস্যা আছে। আমি সেটা স্বীকার করছি। আর আমাদের নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে।’

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে আজ মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জারি করা সেই নির্বাহী আদেশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ৬-৩ ভোটের এই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের...
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি ও সাংবিধানিক ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িত। ল্যাটিন শব্দ ‘জাস সোলি’ বা মাটির অধিকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ধারণাটি...
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে এক বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) জালিয়াতির অভিযোগে চীনের এক সময়ের শীর্ষ ধনী ও আবাসন ব্যবসায়ী গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) নিউইয়র্কের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন...
১০ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক রায়ে আদালত ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক...
১০ ঘণ্টা আগে