
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট কমাতে চীনের খাদ্য ও সার মজুত করা বন্ধ করা উচিত। এই সংকট মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ডেভিড ম্যালপাস ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার ট্রেজারি সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘ওয়ার্ল্ড বিজনেস রিপোর্টে’ এসব কথা বলেন।
ম্যালপাস বলেন, ‘তাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও সারের মজুত রয়েছে। তারা এই মজুত আরও বাড়ানো বন্ধ করতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে দেশগুলো সার সংগ্রহের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
চীন গত মার্চ থেকে কয়েক ধরনের সার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধের ওপর আরও একটি বড় পদক্ষেপ।
গত বছর বৈশ্বিক সার উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই ছিল চীনের অংশ। একই সময়ে দেশটির সার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে থাকা ম্যালপাস আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চীনের দাবি এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে, অথচ তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বহু দিক থেকেই ধনী।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারপরও তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংকে উন্নয়নশীল দেশের পরিচয় ধরে রাখার ভান করছে, যা তারা চাইলে স্থগিত করতে পারে।’
চীনের ওয়াশিংটন ডিসি দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বিবিসিকে দেওয়া এক ই–মেইল বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন বৈশ্বিক খাদ্য ও সার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মূল কারণগুলো স্পষ্ট; এর দায় চীনের ওপর চাপানো যায় না।’
ম্যালপাসের চীনের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অবস্থান নিয়ে মন্তব্যের জবাবে লিউ বলেন, ‘চীন সর্বজনীনভাবে বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত—যার ভিত্তি যথেষ্ট বাস্তব তথ্যপ্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা বজায় রাখা চীনের বৈধ অধিকার।’
ম্যালপাস আশা প্রকাশ করেন, চীন হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থার সমাধানে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, সমুদ্রপথের মুক্ত চলাচল চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চীন বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত জলপথ থেকে লাভবান হয়। তারা শিপিং লাইন পরিচালনা করে, কনটেইনারের মালিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিপুল মুনাফা করে। তাই ইরান যদি কোনোভাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তারাই বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের চালানো অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রভাব পড়ছে দেশটির বড় শিল্পগুলোতেও। সম্প্রতি কানসাসে অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। গরু মোটাতাজাকরণ খামার ও পশু জবাইখানার জন্য পরিচিত অঞ্চলটিতে অভিযানের প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে গরুর মাংসের শিল্পে।
১ ঘণ্টা আগে
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনঃউন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলা সাত মাসব্যাপী বিস্তৃত যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাবটি হস্তান্তর করা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে
অ্যাডলফ হিটলারের ভাগনি অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালের মৃত্যু নিয়ে প্রায় ৯৫ বছর পর নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জার্মানির আর্কাইভ থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু নথি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১৯৩১ সালে মিউনিখে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে রাউবালের মৃত্যুর প্রচলিত সময়সীমা ভুল হতে পারে।
১৪ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সাংবাদিক ভারত সরকার ‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা’ বন্ধ করবে কবে—এমন প্রশ্ন করলে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন—‘একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’
১৫ ঘণ্টা আগে