
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ সরবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গাজায় হলুদ রেখা বা ইয়েলো লাইন বলতে সেই সীমানাকে বোঝায়, যেখানে ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার পূর্বাঞ্চলে সেনা প্রত্যাহার করেছিল। গত মাসে শুরু হওয়া পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমে সেই লাইন থেকে সরে আসার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনাথ আয়োজিত এক সম্মেলনে কাৎজ বলেন, ‘আমরা কখনোই হামাসকে থাকতে দেব না, অস্ত্রসহ নয় এবং টানেলসহও নয়। স্লোগানটি সহজ: শেষ টানেল পর্যন্ত।’ তিনি দাবি করেন, ‘অস্ত্র, টানেল এবং অন্যান্য জিনিস থেকে হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইয়েলো লাইন থেকে এক মিলিমিটারও সরব না।’
এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলি ক্যাবিনেট সচিব ইয়োসি ফুচস বলেন, সরকার হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৬০ দিন সময় দেবে এবং এটি পালন না করলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। দুই বছর স্থায়ী এই যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী। এ ছাড়া বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। তবে ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজার বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ, যা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কার্যকর হয়েছে। এই পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আরও প্রত্যাহার, পুনর্গঠন শুরু করা, অতিরিক্ত মানবিক সাহায্য প্রবেশ এবং ভূখণ্ডটি পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন।
পৃথকভাবে ইয়েদিওথ আহরোনাথ জানিয়েছে—কাৎজ বলেছেন, ইসরায়েলকে স্বাধীনভাবে আত্মরক্ষা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ অস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি গোলাবারুদের জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং যুদ্ধের সময় মিত্রদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন।
কাৎজ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহান মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ইসরায়েলকে তাঁর ভাষায় ‘বহুমুখী সংঘাতের’ সময় সমর্থন করেছিল, যদিও তিনি কিছু মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করেছেন, যা ‘প্রভাব ফেলেছিল।’
ইসরায়েল কাৎজ বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিল্ড অব ইসরায়েল’ (Shield of Israel) নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার) যোগ করা হবে। কাৎজ জানান, এই পরিকল্পনাটি ইসরায়েলের ‘অর্থনৈতিক শক্তির ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘অর্থনীতি ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই এবং নিরাপত্তা ছাড়া কোনো অর্থনীতি নেই।’

পোপ লিও যুদ্ধের পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, এই নেতারা এসব ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে এবং ফায়দা লুটতে ধর্মের নাম ব্যবহার করছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
৩ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার...
৩ ঘণ্টা আগে