Ajker Patrika

চীনা ক্ষেপণাস্ত্রেই সম্ভবত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান: প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চীনা ক্ষেপণাস্ত্রেই সম্ভবত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান: প্রতিবেদন
এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান। ছবি: এএফপি

গত মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সম্ভবত চীনের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়। বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে এই তথ্য জানিয়েছেন। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর এর এক ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বেশ কঠিন অভিযান চালাতে হয়েছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ বিমানটির দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনো তদন্ত চালাচ্ছেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম শত্রুপক্ষের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা।

এনবিসি নিউজ ওই তিন সূত্রের বরাতে বলছে, চলমান সংঘাতের শুরুর দিকে চীন ইরানকে একটি দূরপাল্লার ‘আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার’ সরবরাহ করেছিল। এটি রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমানকেও সহজে শনাক্ত করতে পারে।

ইরানের কাছে এই সামরিক সরঞ্জাম ঠিক কবে হস্তান্তর করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এমন এক সময়ে ইরানের হাতে চীনা অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতা কামনা করছেন। ফলে এই ঘটনা বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গত মাসে বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এটি কাঁধে রেখে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাডস-এর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এবং ৪০ পাউন্ড ওজনের এই অস্ত্রগুলো অত্যন্ত কম খরচে নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার জন্য বেশ কার্যকরী।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর এর দুই ক্রু সদস্য নিরাপদে ইজেক্ট (প্যারাসুটসহ বিমান থেকে বের হওয়া) করে ইরানের মাটিতে অবতরণ করেন। এরপর সাত ঘণ্টার মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, বিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসারকে উদ্ধার করতে দুই দিন সময় লেগেছিল। তিনি ইরানের জাগ্রোস পর্বতের পাদদেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এনবিসি নিউজকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়। ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, সি চিনপিং তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তিনি আবারও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না।

এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, সামরিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন সব সময় বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মানা হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, চীন ইরানকে আরও নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এই এফ-১৫ বিমান ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে নাকি বহু বছর আগের মজুত থেকে ব্যবহৃত হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়। এমনকি ‘ওয়াইএলসি-৮বি’ নামের সেই চীনা রাডারটি যুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর নিখুঁতভাবে হামলা চালানোর জন্য ইরানকে চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের তিনটি স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করে। চীন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে সহায়তার জন্য চীন যা কিছু করছে তার সবটাই ওয়াশিংটনের নজরে রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের আগে থেকেই চীন ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছিল এবং চলমান যুদ্ধে তাদের দেওয়া কোনো সহায়তা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে চীন ইরানের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, কামান এবং যুদ্ধবিমানসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করেছিল। কিন্তু ২০০৬ সালে ইরানের ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ার পর চীন বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছিয়ে আসে। এর পরিবর্তে তারা ইরানকে এমন সব যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করতে শুরু করে যা বেসামরিক ও সামরিক—উভয় কাজেই ব্যবহার করা যায়।

এই সুযোগে ইরান নিজেই দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী অস্ত্র শিল্প গড়ে তোলে। তা সত্ত্বেও, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বছরের পর বছর ধরে চীন ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে এবং তেহরানের সামরিক ও নজরদারি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে নেপথ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত