Ajker Patrika

হালিশহরে মমতার বহরে জুতা-কাদা নিক্ষেপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হালিশহরে মমতার বহরে জুতা-কাদা নিক্ষেপ
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পশ্চিমবঙ্গের হালিশহরে সম্প্রতি পুলিশ হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিরজু কেওটে নামের ওই মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িটি ঘিরে ধরেছেন। কেউ কেউ তাঁর গাড়ির ওপর কাদা ছিটিয়ে দিচ্ছেন কেউ আবার কনভয় লক্ষ্য করে পানির বোতল, জুতো ছুড়ে মারছেন। অনেক বিক্ষোভকারী টিএমসি সুপ্রিমোকে ‘চোর’ ও ‘ডাকাতের রানি’ আখ্যা দিয়েও নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে মারধরের কারণে টিএমসি কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চরম জনরোষের সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের আবহেই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নিহতের বাসভবনে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা তাঁর পথ আটকে দিলে তৈরি হয় অচলাবস্থা।

ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়টিকে নিরাপদে ওই এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যান, যাতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে যাওয়ার পথে এই হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশের সামনেই দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছুড়েছে। হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে, গাড়ির জানালা খোলা থাকলে আমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যেত।’

পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, প্রশাসন ও পুলিশ ‘বিজেপিকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।’

এদিকে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তাঁদের দলের কোনো যোগসাজশ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিজেপি কখনো পাথর ছোড়া, কাদা ছিটানো কিংবা সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে পাদুকা নিক্ষেপকে সমর্থন করে না। এ ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে উল্লেখ করে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বলেন, বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ জাতীয় আচরণের কোনো স্থান নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মেয়াদের সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করা বা তাদের ওপর কাদা, কালি ও জুতো ছুড়ে মারা দল বা সরকার সমর্থন করে না।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না...যদি কেউ নিজেকে বিজেপির সমর্থক দাবি করে এমন কাজ করে থাকে, তবে সে ভুল করছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধারে একজন নারী এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির নাম ভাঙিয়ে যারা এসব করছে, তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত নয়।’

টিএমসি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে জটিলতা

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা টিএমসি কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, হেফাজতে নিয়ে তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে পুলিশি নির্যাতন ও জবাবদিহির প্রশ্ন তুলছে, সেখানে বিজেপি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত