
ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি বলেছেন, দিল্লি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পাকিস্তানের কারণে আটকে রাখেনি। বরং ‘সন্ত্রাসবাদের নীতিগত প্রশ্নে’ ভারত এই অবস্থানে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট ও কাঠামোগতভাবে সমাধান না হলে আঞ্চলিক এই জোট সামনে এগোতে পারবে না। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনআই–এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত চ্যালেঞ্জ নিয়ে এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিক্রি বলেন, ‘এটি শুধু সন্ত্রাসের বিষয় নয়। অর্থ যদি অস্ত্র হয়ে থাকে, তাহলে কোন লাইন দিয়ে কে কী করছে, সেগুলোও পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বয়ানটি স্পষ্ট করতে পারব যে—পাকিস্তানের কারণে শুধু সার্ক আটকে রাখছি না। আমরা সন্ত্রাসবাদের নীতিগত প্রশ্নে সার্ক স্থগিত রেখেছি এবং আমরা চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিক্রি বলেন, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নের সমাধানের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে আরও কিছু প্রচেষ্টাও যুক্ত হওয়া দরকার। যেমন আজ বাংলাদেশে, নেপালে পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্ম দৈনন্দিন বাস্তব বিষয় চায়। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বৃত্তি, বাজার, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়। যেখানে ভারতের বিপুল সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে।’
সিক্রি আরও বলেন, ভারত তার মূল অবস্থান অটুট রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সার্ক এবং সিন্ধু পানি চুক্তির মতো বিষয়গুলো প্রশমিত করতে পারি। প্রথমত, নিজেদের অবস্থানে অটল থেকে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে আগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু প্রস্তাব করেও। এতে সবাইকে একসঙ্গে আনা সম্ভব হবে।’
আঞ্চলিক জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অতীতের কার্যকারিতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। সিক্রি বলেন, ‘আমি মনে করি সার্ক এমন একটা বিষয়, যা ১৯৮০-এর দশকে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এটি কাজ করেনি। এটি কাজ করেনি, কাজ করেনি।’ তিনি আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের পুনর্মূল্যায়নেরও ইঙ্গিত দেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্কের ভেতরে ভারত ও বাংলাদেশের উদাহরণই ধরা যাক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৫ বছরে তিনি যা করেছিলেন, তা হলো ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সীমা বা রেড লাইনগুলোকে সম্মান করার কথা বলেছিলেন।’
বাস্তববাদী আঞ্চলিক কূটনীতির আহ্বান জানিয়ে সিক্রি বলেন, ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বয়ানের মধ্যে আটকে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘চলুন সার্ক নিয়ে কথা বলি। বাস্তববাদী হই এবং বলি, সার্কে ভারত-পাকিস্তানের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, সেটিকে একপাশে রাখি। পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের অভ্যন্তরীণ লড়াই এক পাশে সরিয়ে রাখি। পাকিস্তানকে সেই সম্মান দিন। কারণ, এখন বিশ্বের বাকি অংশ পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখে।’
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যা-ই ঘটুক না কেন, সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তারা ছাড়েনি। তাই আমি মনে করি, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। তারা যদি সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটি বড় অগ্রগতি হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাইরের মধ্যস্থতা বা চাপ পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। সিক্রি বলেন, “যদি আমেরিকা তাদের বাধ্য করতে পারে, অথবা অন্য কেউ পারে, তাহলে সেটি ভালো হবে। তখন সত্যিই বিষয়টি এগোতে পারে।’
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, আঞ্চলিক সংলাপের ওপর অস্থিরতার একটি ধারাবাহিক প্রভাব রয়েছে। সিক্রি বলেন, ‘আমরা জানি, প্রতিবার সার্ক বৈঠক হওয়ার আগে বা পরে কোনো না কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে।’
প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এর সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত। সংস্থাটির লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংহতি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া।

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) স্থগিতসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান...
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির প্রতিবাদ ও গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা। গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া এই তরুণ নেত্রী...
৬ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী হামলা ও বিমানবন্দরের অচলাবস্থা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংকটই তৈরি করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী হামলার মুখে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশপথ কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে। গত শনিবার দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে ভয়াবহ প্রাণহানির পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে.
৮ ঘণ্টা আগে