Ajker Patrika

পশ্চিমবঙ্গেও এল বুলডোজার সংস্কৃতি: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাংসের দোকান ও তৃণমূল কার্যালয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পশ্চিমবঙ্গেও এল বুলডোজার সংস্কৃতি: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাংসের দোকান ও তৃণমূল কার্যালয়
মধ্যরাতে বুলডোজার এনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাংসের দোকান ও তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার প্রাণকেন্দ্র তথা হেরিটেজ তকমা পাওয়া নিউ মার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায় নজিরবিহীন ‘বুলডোজার হামলা’র ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার গভীর রাতে একদল লোক বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয়ে একটি মাংসের দোকান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের একটি কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

জনবহুল এই এলাকায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের কড়া নজরদারি থাকে, সেখানে মাঝরাতে কীভাবে একটি আস্ত বুলডোজার নিয়ে এমন তাণ্ডব চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ: পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষেই বিজেপির বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকেই এই ভাঙচুর চালানো হয়।

ডেরেক দাবি করেছেন, যখন বুলডোজার দিয়ে হেরিটেজ মার্কেটের অংশ ভাঙা হচ্ছিল, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিএফ) পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু কোনো বাধা দেয়নি।

তৃণমূলের অভিযোগ, উত্তর ভারতের ‘বুলডোজার রাজনীতি’ এবার বাংলাতেও আমদানি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এটি নিছক জয়োৎসব নয়, বরং এক ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

নিউ মার্কেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১২টার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা বুলডোজার ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: বিজয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া হলেও তাতে বুলডোজার বা কোনো ভারি যন্ত্রপাতির ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ট্রাফিক ক্যামেরা এবং নিউ মার্কেটের নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বর্তমানে হগ মার্কেটের প্রবেশপথে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং বাজার এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজেপি এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো যোগসূত্র থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। অনেক সময় নিজেদের কার্যালয় নিজেরাই ভেঙে বিজেপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি কোনো বিজেপি কর্মী এই ধরনের হিংসাত্মক কাজে জড়িত প্রমাণিত হয়, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

তিনি উল্টো দাবি করেছেন, সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কিছু ‘সুবিধাবাদী’ লোক অতি-উৎসাহী হয়ে এই ধরনের কাজ করে বিজেপির বদনাম করতে পারে।

কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, গভীর রাতে বিকট শব্দে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যদি এই ধরনের হামলা চলতে থাকে, তবে তাঁদের রুটি-রুজিতে টান পড়বে। ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রের মতো নেতার পোস্টের পর বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কলকাতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বর্তমানে নিউ মার্কেট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ বুলডোজারটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জারি রেখেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল, সরকারি ১০ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ

মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

কারিনা কায়সারের কবরে সাপ? ভাইরাল ভিডিওটি পুরোনো

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত, কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত