Ajker Patrika

মমতাকে অপসারণ, অভিষেককে বহিষ্কার—‘আসল তৃণমূলের’ নতুন কমিটিতে যাঁরা আছেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৯: ৫১
মমতাকে অপসারণ, অভিষেককে বহিষ্কার—‘আসল তৃণমূলের’ নতুন কমিটিতে যাঁরা আছেন
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপারসনের পদ থেকে অপসারণ ও দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করেছে বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। একই সঙ্গে এই ‘আসল তৃণমূল’ দলের একটি নতুন কমিটিও ঘোষণা করেছে। গতকাল রোববার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

এর আগে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। তার জবাবে এবার পাল্টা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দলটির মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি জানাল এই বিদ্রোহী শিবির।

নিউ টাউনের ওই বৈঠকে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সভায় ৬০ জন বিধায়ক (এমএলএ) ও কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রধানের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে হাওড়া মধ্য আসনের বিধায়ক অরূপ রায়কে। অরূপ রায়ই এখন ‘আসল তৃণমূলের’ নতুন চেয়ারপারসন।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলে তৈরি হওয়া এক চরম ‘সাংবিধানিক সংকট’ দূর করতেই এই জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, তৃণমূলের দলীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর ‘জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করা বাধ্যতামূলক। দলে সর্বশেষ ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

বৈঠকে উপস্থিত এক শীর্ষ নেতা ঋতব্রতের বক্তব্য উদ্ধৃত করে টেলিগ্রাফকে জানান, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক কাঠামো আর নবায়ন বা পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে দলীয় সংবিধান মেনে জাতীয় নেতৃত্বকে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

এই নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশের পর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) এখন স্পষ্টত তিনটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রথমেই আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল সাংগঠনিক ধারা। এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ, যারা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দাবি করছে। তিন নম্বরে আছে তৃণমূলের প্রায় দুই ডজন (২৪ জন) লোকসভা সদস্য বা এমপি ইতিমধ্যে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি’ নামের একটি স্বল্প পরিচিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।

এদিকে এই দলীয় কোন্দল ও বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের প্রকৃত নেতা বা কার আদর্শ সঠিক—তা নিয়ে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

বিদ্রোহী সাংসদেরা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও লোগো নিজেদের দাবি করে তাঁরা খুব শিগগির ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। তবে দলের ১ হাজার ১০০ কোটি রুপির বিশাল নির্বাচনী তহবিল বা ওয়ার চেস্ট শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের পকেটে যাবে, তা নিয়ে এখনো চরম ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত