Ajker Patrika

চীনে নারীর তিন গুণ পুরুষ, বাড়ছে বিয়ের নামে প্রতারণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০০
চীনে নারীর তিন গুণ পুরুষ, বাড়ছে বিয়ের নামে প্রতারণা
চীনে এখন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিয়ের সংকট বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং যখন বিয়ের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর চোখে পড়ে ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের চটকদার কিছু বিজ্ঞাপন। সেগুলোতে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যৎ নেই এমন কোনো সম্পর্কে বছরের পর বছর সময় নষ্ট করতে হবে না। বরং তাঁকে শান্ত, ভদ্র ও সংসারী এক নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

ওয়াং বলেন, ‘ঘটকেরা বলেছিলেন, গুইঝৌয়ের মেয়েরা মিতব্যয়ী। তারা সংসার চালাতে জানে, ঘরের কাজ করতে পারে। তাদের পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই আপনার পরিবারে বিয়ে হয়ে এলে তারা সংসারী হয়ে আপনার সঙ্গে জীবন কাটাবে।’

তাই জীবনসঙ্গীর সন্ধানে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশের গুইইয়াং শহরে যান ওয়াং।

সেখানে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো সত্যিই জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছেন। ওই নারীকে তাঁর পছন্দের প্রায় সব গুণের অধিকারী বলেই মনে হয়েছিল। বিয়ের আগে তাঁদের মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল।

কিন্তু তাঁর নতুন জীবন যেভাবে দ্রুত শুরু হয়েছিল, প্রায় সেভাবেই দ্রুত শেষও হয়ে যায়। ওয়াং জানান, স্ত্রী তাঁকে যা বলেছিলেন, সবই মিথ্যা।

ওয়াং পরে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী আগে একটি কারাওকে বারে ‘হোস্টেস’ হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে তিনবার তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনটি সন্তানও ছিল। এমনকি তিনি গুরুতর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং বিপুল ঋণের মধ্যে ছিলেন। এমনকি ওই নারী নিজের বয়স নিয়েও মিথ্যা বলেছিলেন বলে জানান ওয়াং।

এখন ওয়াং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য লড়ছেন। এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে কিন্তু তিনি এখনো সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। তিনি জানান, কয়েকজন সম্ভাব্য কনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর এজেন্সিকে ফি হিসেবে তাঁর জীবনের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ দিয়ে দিয়েছিলেন। সেই অর্থের কিছুটা হলেও ফেরত না পেলে স্বাভাবিক জীবন শুরুর উপায় নেই।

ওয়াং বলেন, ‘আমার মা-বাবা আমাকে দোষারোপ করছেন। আমি অনিদ্রা ও মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছি। কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না।’

ওয়াংয়ের ঘটনাটি চীনের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাগত সংকটের এক চরম পরিণতি।

কয়েক দশক ধরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দম্পতিদের জন্য ‘এক সন্তান নীতি’ নির্ধারণ করেছিল। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তারা এই নীতি পরিবর্তন করলেও, ততোদিনে ‘এক সন্তান নীতি’ এবং পুত্রসন্তানের প্রতি অগ্রাধিকারের মানসিকতার কারণে নারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং লিঙ্গ ভারসাম্যে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা দেয়।

চীনে এখন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা তিন কোটি বেশি। এই সংখ্যা যুক্তরাজ্যের মোট পুরুষ জনসংখ্যার চেয়েও বেশি, এমনকি অস্ট্রেলিয়ার পুরো জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর ফলে ওয়াংয়ের মতো চল্লিশের কাছাকাছি বয়সী পুরুষেরা বিশেষ করে যারা ছোট শহর বা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন, তারা বিয়ের ক্ষেত্রে চরম সংকটে পড়েছেন। এসব এলাকার নারীরা পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুবিধা পান, কারণ তারা জানেন বাজারে তাঁদের চাহিদা বেশি।

ওয়াং বলেন, পুরুষদের জন্য শর্তগুলো অনেক কঠিন। আপনার গাড়ি থাকতে হবে, বাড়ি থাকতে হবে এবং সম্ভব হলে পারিবারিক ব্যবসাও থাকতে হবে।

অনেক পরিবার এখন মোটা অঙ্কের পণ বা ‘ব্রাইড প্রাইস’ দাবি করছে। দীর্ঘদিন ধরে চীনে চলে আসা এই প্রথা অনুযায়ী বরের পরিবার কনের পরিবারকে অর্থ দিয়ে থাকে। দেশটির যেসব এলাকায় নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে এটি এক বিশাল আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।

এ কারণেই গুইঝৌয়ের মতো জায়গায় ঘটকালি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠান ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ বা দ্রুত বিয়ের মাধ্যমে সমাধান এনে দিচ্ছে। অবশ্য চীনে ঘটকালি প্রতিষ্ঠান নতুন কিছু নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়া পুরুষদের অনেককেই এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে।

তবে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই খাতে ‘দ্রুত প্রবৃদ্ধি’ হয়েছে, যা ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে’।

দেশটিতে এই প্রতারণার বিস্তার কতটা হয়েছে তা নির্ধারণ করা না গেলেও বিষয়টি এখন চীনা কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনায় ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। ‘ব্যাপক জনউদ্বেগ’ তৈরি হওয়ায় এই মাসে ঘটকালি খাতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালাতে পাঁচটি পৃথক সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

এরকমই এক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে একটি ঘটকালি প্রতিষ্ঠান কারাওকে বারের কর্মীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে ১২৮ জনের কাছ থেকে ২৫ লাখ ইউয়ানের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ২৫০ টাকা) বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

বেইজিং জিংশি ল ফার্মের নানজিং কার্যালয়ের ফান বিংহে বিবিসিকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফ্ল্যাশ ম্যারেজের প্রতারণা ঠেকাতে সরকার এই খাতের জন্য নির্দিষ্ট বিধিমালা চালু করতে পারে।’

দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’-এর বাজারে পরিণত হয়েছে গুইইয়াং শহরটি। তবে ‘রোমান্টিক সম্পর্কের কোনো কেন্দ্র’ হয়ে উঠতে পারেনি এটি।

ওয়াং জানান, ঘটকালি প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে জানিয়েছিল তারা সম্ভাব্য কনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই করবে এবং তিনি প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। তখন তিনি তাঁদের বিশ্বাস করেন এবং ফি পরিশোধ করেন। শুরু হয় পরিচয়পর্ব।

কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে সাত জন নারীর সঙ্গে দেখা করায় ওই ঘটকালি প্রতিষ্ঠান। অষ্টম নারীটিকে মনে ধরে তাঁর। ওয়াংয়ের মনে হয়, তিনি এমন একজন নারী খুঁজছিলেন, যাঁর আগে বিয়ে হয়নি, কোনো সন্তান নেই এবং যিনি তাঁর চেয়ে সামান্য কম বয়সী।

ওয়াং বলেন, ‘তিনিও খুব সাধারণ পোশাক পরেছিলেন। তাঁকে অন্তর্মুখী ও সৎ মনে হয়েছিল।’

এরপর তাঁরা চার-পাঁচবার দেখা করেন। প্রতিবার মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিটের মতো কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। ওয়াং জানান, তাঁদের ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত বার্তার কোনো তথ্য বিনিময় না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা করলে জরিমানা দিতে হতো।

এর দুই-তিন দিন পর ওয়াং সিদ্ধান্ত নেন, ওই নারীই তাঁর জন্য উপযুক্ত। এরপর তিনি ওই নারীর পরিবারের দাবি করা বড় অঙ্কের বিয়ের অর্থ দিতে সম্মত হন।

কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ৩ লাখ ইউয়ানের বেশি খরচ করেছি। বিয়ের ভোজসহ অন্যান্য সব খরচ ধরলে আমার প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ ইউয়ান খরচ হয়েছে।’

ঘটকালি প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের বিয়ের একাধিক ছবি ও ভিডিও চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সেবা প্রচারের জন্য ব্যবহার করে। বিয়ের ভিডিওতে দেখা যায়, লাল গালিচায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নবদম্পতি হাত ধরে আছেন এবং হাসছেন। পেছনে বাজছে রোমান্টিক সংগীত।

বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ঋণ আদায়কারীদের ফোন আসতে শুরু করে। তাঁরা দাবি করেন, ওই নারীর কাছে তাঁদের টাকা পাওনা রয়েছে।

চীনে এখন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিয়ের সংকট বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
চীনে এখন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিয়ের সংকট বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

তখন ওয়াংয়ের সন্দেহ হয়। তিনি জানতে চান, স্ত্রী তাঁর কাছ থেকে আর কী কী বিষয় গোপন করেছেন। তিনি স্ত্রীর মুঠোফোন পরীক্ষা করে তাঁর আগের জীবনের নানা তথ্য, জন্মসনদ এবং আগের বিয়ের নথিপত্র খুঁজে পান। স্ত্রীর মুখোমুখি হলে তিনি ওয়াংকে বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন। তবে বিয়ের সময় দেওয়া অর্থের এক পয়সাও ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

ওয়াং সে সময় বিয়ে করানো ওই ঘটকালি প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ লাগান আর দেখেন তারা কার্যালয় গুটিয়ে সেখান থেকে উধাও হয়ে গেছে।

গুইইয়াংয়ে ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে এখন থাকেন ওয়াং। ওই এলাকায় এ ধরনের বেশির ভাগ ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। এখন অন্য পুরুষদের সতর্ক করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়েই সময় কাটান তিনি। এসব ভিডিওতে এ ধরনের প্রতারণায় কী কী বিপদ হতে পারে, তা তুলে ধরেন।

তাঁর ভাড়া করা ফ্ল্যাটে এমন অনেক পুরুষ আসেন, যাঁরা হয় তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের খুঁজছেন, নয়তো মাত্র কয়েক সপ্তাহ সংসার করার পর পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীদের কাছ থেকে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানালার পাশে একটি ভাঁজ করা বিছানায় বসে ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন তাঁর যত্ন করে সাজানো প্রমাণপত্রগুলো লাল প্লাস্টিকের একটি বাজারের ব্যাগ থেকে বের করেন। তিনি চীনের জিয়াংসি প্রদেশের বাসিন্দা। ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছেলের জন্য স্ত্রী খুঁজতে গিয়ে তিনি প্রায় ৫ লাখ ইউয়ান খরচ করেছেন।

ছেলেকে নিয়ে তাঁরা ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে গুইইয়াংয়ে যান। সেখানে একটি ‘ব্লাইন্ড ডেট’ কক্ষে কনের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে তাঁর ছেলে বিয়ে করেন।

শু বলেন, বিয়ে নিবন্ধনের পর ওই নারী তাঁদের একটি আইফোন কিনে দিতে বলেন এবং নিজের ব্যবসার কাজে সহায়তার জন্য প্রায় ২০ হাজার ইউয়ান দিতে বলেন। এ ছাড়া বিয়ের পোশাক ও গয়নার জন্য আরও ১ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান চান বলেও তিনি দাবি করেন।

শু বলেন, ‘আমি শুধু চেয়েছিলাম, সে সত্যিকার অর্থে সংসারী হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুক। সে বলেছিল, তার একটি বাড়ি দরকার। আমি তাদের জন্য বাড়ি কিনে দিতে রাজি হয়েছিলাম। সবকিছুই ঠিক হয়েছিল।’

ওই নারী তাঁদের সঙ্গে দুই সপ্তাহেরও কম সময় থাকার পর পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। শুয়ের ছেলে ও ওই নারী বিবাহবিচ্ছেদও করতে পেরেছেন। শু বলেন, ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ক্ষতির কিছুটা অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি এখনো গুইইয়াংয়ে অবস্থান করছেন।

গুইইয়াংয়ে এমন কোনো ঘটকালি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে কর্মীরা কথা বলতে রাজি। একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কথা বলতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘চীনে ফ্ল্যাশ ম্যারেজের বিশাল বাজার রয়েছে। গত দুই-তিন বছরেই মূলত এর উত্থান ঘটেছে।’

ঘটকালি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এখানকার পরিবারগুলো এক সন্তান নীতিটি কঠোরভাবে মেনে চলেনি। ফলে এই এলাকায় নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাদের একজন বিবিসিকে বলেন, ‘কোনো পরিবারের দুই বা তিনটি মেয়ে থাকলেও তারা ছেলে সন্তানের আশায় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেত।’

তারা বলছে, এখন এসব নারীকে মধ্যাঞ্চলের প্রদেশগুলোর পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। হেবেইয়ে বসবাসকারী ওয়াংয়ের মতো এসব পুরুষ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল, কিন্তু তাঁদের আশপাশে নারীর সংখ্যা কম।

ওয়াং বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, একটি প্রতিষ্ঠান যখন এত বেশি সেবা ফি নিচ্ছে, স্থানীয় ঘটক যখন তাঁর নিজ এলাকায় ওই নারীর পটভূমি যাচাই করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি যখন এত নিশ্চয়তা দিচ্ছে, তখন নারীদের দেওয়া তথ্য পুরোপুরি মিথ্যা হতে পারে।’

এখন নিজের ক্ষতির বিষয়টি প্রায় মেনে নিয়েছেন ওয়াং। প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়ার জন্য নিজেকেই দায়ী করেন তিনি। ওয়াং বলেন, ‘সমস্যা আছে এমন নারীরাই এ ধরনের ফ্ল্যাশ ম্যারেজে রাজি হবেন।’

নিজের টাকা ফেরত পেতে ওয়াং গুইইয়াংয়ের পুলিশ কার্যালয়ে গিয়েছেন। এমনকি এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাতে বেইজিংয়েও গিয়েছেন তিনি।

এ ধরনের বহু মামলা পরিচালনা করেছেন আইনজীবী ফান বিংহে। তিনি বলেন, এ ধরনের মামলা পরিচালনা করা কঠিন। এর একটি কারণ হলো, চীনের আইনে এ ধরনের বিয়ের প্রতারণাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিধান নেই। ফলে ফৌজদারি মামলা করতে হলে ভুক্তভোগীকে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর সঙ্গীর শুরু থেকেই উদ্দেশ্য ছিল তাঁর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।

ফান বলেন, ‘আমি যেসব মামলা পরিচালনা করেছি, সেগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই দাবি করেন যে তাঁদের সত্যিই বিয়ে করে ভালোভাবে সংসার করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না, দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা সম্পর্কটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সীমারেখাটি অস্পষ্ট হয়ে যায়। সম্পর্কের সমস্যার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করা কঠিন।’

আরও কঠিন হলো, ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা ফেরত পাওয়া। এসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রায়ই ব্যবসা গুটিয়ে উধাও হয়ে যায়।

ওয়াং বলেন, ‘প্রায় দুই বছর হয়ে গেছে। এখনো আমি জানি না, কবে তাঁর সঙ্গে আমার বিবাহবিচ্ছেদ হবে। আমি জানি না, কবে এই সমস্যার সমাধান হবে, আবার কবে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারব। মনে হচ্ছে, এর কোনো শেষ নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত