Ajker Patrika

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাশার আল আসাদ ও তাঁর চাচাত ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৪৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাশার আল আসাদ ও তাঁর চাচাত ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
বাশার আল আসাদ ও তাঁর চাচাত ভাই আতেফ নাজিব। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার এক দশকেরও বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অধ্যায় শেষে আজ দেওয়া হয়েছে এক নজিরবিহীন রায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। একই সাজা দেওয়া হয়েছে দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান ও বাশার আল আসাদের চাচাত ভাই আতেফ নাজিবকেও।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের অধীনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এই রায় দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের এই সাজা দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে, আতেফ নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত বলেছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের অধীনে সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের পতনের পর তিনি রাশিয়া পালিয়ে যান এবং তাঁর চাচাত ভাই আতেফ নাজিব ধরা পড়েন। আদালত বাশার আল আসাদের অনুপস্থিতিতেই তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করল।

আদালত বাশার আল আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও—যিনি বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন—পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল।

২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাজিব। সেই দমন-পীড়নই পরবর্তীতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগারের পোশাক পরা অবস্থায় একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ‘১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা’ এবং ‘নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো’।

বাশার আল-আসাদ ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায়ই হলো অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের আমলে প্রথম এমন রায়। চলতি বছর থেকেই সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির নতুন কর্তৃপক্ষ। আদালতে বক্তব্য দেওয়া বিচারক আল-আরিয়ান বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্টের অপরাধগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ছিলেন এসব অপরাধের ক্ষেত্রে ‘সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী’ এবং অপরাধ সংঘটনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো বলেন, আজকের এই রায় ‘সিরীয় জনগণের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি নিয়ে আসবে’ এবং এটি তাদের ‘ক্ষত নিরাময়ের প্রক্রিয়ায়’ ভূমিকা রাখবে। হিত্তো বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিল। যারা তাদের সন্তানদের নির্যাতন করেছে, তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং তাদের সম্প্রদায়গুলো ধ্বংস করেছে, সেই ব্যক্তিদের এসব অপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, এটাই তারা দেখতে চায়।’

হিত্তো আরও বলেন, আল-আসাদের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যদের ক্ষেত্রেও এই রায় একটি শক্তিশালী আইনি নজির তৈরি করবে। আল জাজিরার ওসামা বিন জাভাইদ বলেন, ‘সিরিয়ার বিভিন্ন শহরের মানুষ শুধু আল-আসাদের জন্য নয়, বরং তার শাসনামলের সেই সব জল্লাদের জন্যও ন্যায়বিচার চায়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত