Ajker Patrika

ভাইরাল ভিডিওর জেরে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে নারীকে হত্যা করেন বাবা ও ভাই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৯
ভাইরাল ভিডিওর জেরে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে নারীকে হত্যা করেন বাবা ও ভাই
নিহত সোফিয়া ফারুক এবং তাঁর বাবা ও ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ‘পারিবারিক সম্মান’ রক্ষার নামে ওই তরুণীকে তাঁর বাবা ও ভাই মিলে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে সাজানো হয়েছিল ‘হিট অ্যান্ড রান’-এর নাটক।

নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তাঁর বয়স ২২ বছর। গত ১২ আগস্ট আহমেদাবাদে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রথমে পুলিশকে জানানো হয়। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় সোফিয়ার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার রাতে সোফিয়া তাঁর ভাই হাবিলের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে চেলাজপুরা চার রাস্তার কাছে যাচ্ছিলেন। রাত ১১টার দিকে তাঁদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সোফিয়াকে প্রথমে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ১৩ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘হিট অ্যান্ড রান’ হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। তবে তদন্তের একপর্যায়ে সোফিয়ার সঙ্গে এক তরুণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

পুলিশের অভিযোগ, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পরিবারের ‘সম্মান’ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় সোফিয়াকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর বাবা ও ভাই। পরে তাঁরা মোটরসাইকেলে করে সোফিয়ার পিছু নেন। চেলাজপুরা গ্রামের কাছে তাঁকে থামিয়ে হাবিল লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ। তাঁর বাবা এই ঘটনায় সহযোগিতা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরপর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে দুজন মিলে সাজানো গল্প তৈরি করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

পুলিশ জানিয়েছে, সোফিয়ার বাবা ও ভাই একটি ফ্যাব্রিকেশন ব্যবসা পরিচালনা করেন। অন্যদিকে সোফিয়া আহমেদাবাদের জুহাপুরা এলাকার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। মামলাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত