আমির খান অভিনীত বলিউড ব্লকবাস্টার ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কল্যাণে ‘র্যাঞ্ছো’ এখন পরিচিত নাম। সিনেমার ‘র্যাঞ্ছো’কে তাঁর বন্ধুরা ফিরে পায় একেবারে শেষে, অনেক খোঁজার পর। বন্ধুদের কল্যাণে তার জীবনে ফেরে প্রেমিকাও। কিন্তু বাস্তবের ‘র্যাঞ্ছো’র জীবন কিন্তু ছয় মাস ধরে আটকে আছে কারাগারের ছোট্ট ঘরে। তবে সেই কষ্টের দিন শেষ হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাস্তবের ‘র্যাঞ্ছো’র বিরুদ্ধে দায়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শনিবার এ নিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে সরকার।
বাস্তবের ‘র্যাঞ্ছো’র নাম সোনম ওয়াংচুক। এই বিজ্ঞানী পরিবেশ রক্ষা নিয়েও সোচ্চার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে লাদাখে সহিংসতার অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। গ্রেপ্তারের পর সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
বিশ্ববাসী সোনম ওয়াংচুককে চেনে শিক্ষা সংস্কারক, জলবায়ুকর্মী এবং একজন উদ্ভাবক হিসেবে। লাদাখ থেকে দিল্লি পর্যন্ত সবার কাছে তিনি এক প্রিয় নাম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবাইকে সোচ্চার করতে গিয়ে তিনি জড়িয়ে যান লাদাখের জটিল রাজনীতির ঘেরাটোপে।
গ্রেপ্তারের পর সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। আবেদনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দায়ের মামলাটিরও চ্যালেঞ্জ করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অরবিন্দ কুমার এবং পি বি ভারালের বেঞ্চ এই আবেদনের শুনানির জন্য ১৭ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, ওই তারিখের আগে এই আবেদন কিংবা মামলার বিষয়ে কোনো যুক্তিতর্ক শুনবেন না।
সেই তারিখ আসার আগেই সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে দায়ের মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলক ও অর্থপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে লাদাখে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক একজন বিজ্ঞানী। লাদাখের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থানের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জনমানুষকে সচেতন করতে তিন দশক ধরে কাজ করছেন তিনি। তবে এই বিষয়টি অনেকেরই পছন্দ হয়নি। ফলশ্রুতিতে গত সেপ্টেম্বরে কারাগারে ঠাঁই হয় তাঁর।
লাদাখের লেহ জেলায় ১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন সোনম ওয়াংচুক। ছোটবেলায় শিক্ষাজীবনে হওয়া অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দিয়েছে। পড়ালেখা করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি শিক্ষা সংস্কারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ভারতের প্রথম বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ (এসইসিএমওএল) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এটি ভারতের প্রথম সবুজ ক্যাম্পাসও। পুরো ক্যাম্পাসটি পরিচালিত হয় সৌরশক্তি দিয়ে।
১৯৯৪ সালে তাঁর একান্ত তৎপরতায় ভারত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে নতুন একটি উদ্যোগ নেয়। তাঁকে লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রকল্পের উপদেষ্টাও নিয়োগ করা হয়। ২০০৫ সালে তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
সোনম ওয়াংচুক ২০১৩ সালে পানি সংরক্ষণে কৃত্রিম হিমবাহ উদ্ভাবন করেন। এই উদ্ভাবন লাদাখে গ্রীষ্মে পানির ঘাটতি পূরণে, বিশেষ করে কৃষকদের চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি র্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার পান।
২০২৪ সালে সোনম ওয়াংচুক লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। তিনি খনিশিল্পের হাত থেকে লাদাখকে রক্ষারও দাবি জানান। তাঁর এই দাবি সরাসরি তাঁকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এর পরপরই লাদাখে তাঁর হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অলটারনেটিভসের জমি বরাদ্দ বাতিল করে সরকার। তারপর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে নামে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এসবে দমে না গিয়ে আবারও অনশনে বসেন ওয়াংচুক। এ দফায় অনশনের ১৫তম দিনে একদল তরুণ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন চারজন। এর পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জার্মান দর্শনের দিকপাল এবং যুদ্ধোত্তর জার্মানির বিবেক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ও দার্শনিক ইয়ুগেন হাবারমাস প্রয়াত হয়েছেন। আজ শনিবার জার্মানির স্টার্নবার্গে ৯৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর সাত দশকের দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা জার্মানির রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
৬ মিনিট আগে
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২২ মিনিট আগে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে নেতানিয়াহুর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই।
১ ঘণ্টা আগে
তিনি দাবি করেন, ইরানের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা এই নৌপথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।’
২ ঘণ্টা আগে