Ajker Patrika

ভারতীয় কল সেন্টার হাতিয়ে নিল প্রবীণ মার্কিনদের লাখ লাখ ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতীয় কল সেন্টার হাতিয়ে নিল প্রবীণ মার্কিনদের লাখ লাখ ডলার
ভারতীয় একটি কল সেন্টার যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের শত শত প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ছবি: প্রতীকী

ভারতে একটি কল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির অভিযোগ, কল সেন্টারটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের শত শত প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং প্রযুক্তি সহায়তার নামে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই জানিয়েছে, কল সেন্টারটির কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের দুই জ্যেষ্ঠ নির্বাহী যথাযথ নজরদারি না করার কথা স্বীকার করেছেন।

এফবিআই জানায়, এফবিআই বোস্টনের তদন্তের পর ‘কল রাউটিং কোম্পানির’ এক সাবেক কর্মী এবং ভারতে অবস্থানকারী পাঁচ টেলিমার্কেটিং প্রতারককে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই ভারতীয় কল সেন্টারের প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরেছে। ছবি: এক্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই ভারতীয় কল সেন্টারের প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরেছে। ছবি: এক্স

এফবিআই এক্সে দেওয়া পোস্টে আরও বলেছে, ‘আমাদের জ্যেষ্ঠ নাগরিকেরা সম্মান, মর্যাদা ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন। আর যদি কেউ তাঁদের টার্গেট করে, তবে আমরা তাদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যাডাম ইয়ং এবং সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) হ্যারিসন গেভার্টজ স্বীকার করেছেন যে তাঁরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন, যা এমন সব গ্রাহককে টেলিযোগাযোগ সেবা দিত, যারা টেক-সাপোর্ট প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তাঁরা জানতেন। ইয়ং এবং গেভার্টজ উভয়েই একটি গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করার (মিসপ্রিজন অব ফেলনি) দায় স্বীকার করেছেন। আগামী ১৬ জুন তাঁদের সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই আরও লিখেছে: ‘কল ট্র্যাকিং ও অ্যানালিটিকস (বিশ্লেষণ) খাতের সুপরিচিত এই কোম্পানির সিইও এবং সিএসও যা করেছেন, তা একেবারেই জঘন্য। তাঁরা নিজেরা স্বীকার করেছেন যে দেশে ও বিদেশে সক্রিয় টেলি মার্কেটিং ও টেক-সাপোর্ট প্রতারকদের কাছ থেকে তাঁরা জেনেশুনে মুনাফা লুটেছেন। এই প্রতারকেরা প্রবীণদের ফাঁদে ফেলেছে, অসহায় মানুষের সুযোগ নিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সারাজীবনের সঞ্চয় ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে। প্রতিটি প্রতারণামূলক ফোনের পেছনে এমন একজন বাস্তব মানুষ ছিলেন, যাঁকে ভীত, অপমানিত বা আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে।’

এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গত বছর প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণার কারণে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতি হয়েছে ২.১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল রোড আইল্যান্ডের বাসিন্দারাই অন্তত ৫৭ লাখ ডলার হারিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত