
যুক্তরাষ্ট্র চীনের নিজের বলে দাবি করা দ্বীপ দেশ তাইওয়ানকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বেইজিং। আর এই আশঙ্কা থেকেই এই অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তার প্রস্তাবিত সফর আটকে রেখেছে চীন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবির বেইজিং সফর নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে চীন ইঙ্গিত দিয়েছে, ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে কীভাবে এগোবেন, সে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সফর অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, গত বছরের ডিসেম্বরে রেকর্ড ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই অস্ত্র প্যাকেজ প্রস্তুত করে। বেইজিং ওই প্যাকেজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং চীন সফর নিয়ে কোলবির সঙ্গে আগের দফার আলোচনা বাতিল করে দেয়।
গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি ‘স্থগিত’ রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ বলেও মন্তব্য করেন।
পরে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি অস্ত্র প্যাকেজটি অনুমোদন করবেন কি না। এতে তাইওয়ানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চেয়েছিল। কিন্তু বেইজিংয়ের সমালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং–তের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।
ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাইওয়ানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলেন। তবে ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন তাইপের পরিবর্তে বেইজিংকে চীনের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর কোনো তাইওয়ানিজ নেতার সঙ্গে কথা বলেননি।
মার্কিন থিঙ্কট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক জ্যাক কুপার বলেন, ‘আমার ধারণা, ভবিষ্যতে ব্রিজ কোলবি বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের যেকোনো চীন সফরকে বেইজিং চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য সম্ভাব্য অস্ত্র প্যাকেজ বিলম্বিত, বিভক্ত বা ছোট আকারে ঘোষণা করে।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং আসেন পিট। ২০১৮ সালের পর প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করেন হেগসেথ। এমনকি এটিই ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পেন্টাগন প্রধানের চীন সফরের প্রথম ঘটনা। পেন্টাগন জানিয়েছে, কর্মকর্তাদের ‘সম্ভাব্য সফর’ নিয়ে তারা মন্তব্য করে না। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মন্ত্রী হেগসেথের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ, আন্ডার সেক্রেটারি কোলবি এবং বিভাগের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে পিআরসির (গণপ্রজাতন্ত্রী চীন) সমকক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পারস্পরিক সম্মান, বাস্তববাদ ও স্পষ্টতার চেতনায় তাঁরা এই যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছেন।’ বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি জানান, কোলবি চীন সফরে গিয়ে হেগসেথের পুনরায় বেইজিং সফরের বিষয়টিও আলোচনা করবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পেন্টাগন। বিশেষ করে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ক্রমেই আরও আক্রমণাত্মক সামরিক মহড়া চালানোর প্রেক্ষাপটে এই প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো এসব মহড়াকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ‘মহড়া’ বা প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূল ভূখণ্ড চীন তাইওয়ানের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের বনি গ্লেসার বলেন, ‘কোলবির চীন সফর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবে। এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের ওপর চীনের চাপ ও জবরদস্তি, তাদের পারমাণবিক আধুনিকায়ন, এবং সাইবার ও মহাকাশ কার্যক্রম।’ গ্লেজার আরও বলেন, কোলবি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেন, যেটি প্রণয়নে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং সংকটকালীন যোগাযোগব্যবস্থাও আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে, ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ধারণে ট্রাম্প এখন জটিল এক সমীকরণের মুখে পড়েছেন। এই প্যাকেজে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং নাসামসের মতো উন্নত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরে সি চিন পিংয়ের প্রত্যাশিত ওয়াশিংটন সফরের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবও তাকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
সিআইএ–এর সাবেক শীর্ষ চীন বিশেষজ্ঞ ডেনিস উইল্ডার বলেন, ‘চীনারা খুব ভালো করেই জানে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করবেন না। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের আগে যেন আরেকটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণা না আসে। এটি ট্রাম্পের তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি যাচাইয়ের বিষয় কম, বরং শিকে কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা বেশি।’
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, কোলবিকে ঘিরে পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা ‘অবগত নয়’। তবে তারা আবারও বলেছে, ‘চীনের তাইওয়ান অঞ্চলে’ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে বেইজিং ‘দৃঢ় অবস্থানে’ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ১৮০ কোটি ডলারের নতুন ক্ষতিপূরণ তহবিল ঘিরে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর সমর্থক, সাবেক সহযোগী এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা..
৮ মিনিট আগে
ব্রিটেনের একটি রেডিও স্টেশন ভুলবশত ঘোষণা দিয়েছিল, রাজা তৃতীয় চার্লস মারা গেছেন। পরে তারা এ ঘটনায় ‘যেকোনো ধরনের মানসিক কষ্টের জন্য’ ক্ষমা চেয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার বিকেলে এসেক্সে অবস্থিত রেডিও ক্যারোলিনের প্রধান স্টুডিওতে একটি কম্পিউটার ত্রুটির কারণে ভুল এই ঘোষণা সম্প্রচারিত হয়।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতে একটি কল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির অভিযোগ, কল সেন্টারটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের শত শত প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং প্রযুক্তি সহায়তার নামে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
গতকাল বুধবার জেনেভায় ডব্লিউএইচওর জরুরি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস। তিনি জানান, ভাইরাসটি এখনো ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে এটিকে মহামারি পর্যায়ের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে