Ajker Patrika

মমতার ‘ভূত’ বিজেপির দিলীপের ঘাড়ে, এক গানেই ভাইরাল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৯
মমতার ‘ভূত’ বিজেপির দিলীপের ঘাড়ে, এক গানেই ভাইরাল
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত

রাজ্য বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ‘ঝালমুড়ি’ গানকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেখানে বিরোধী শিবিরের উপহাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের খোরাক জুগিয়েছে, সেখানে এখন খোদ বিজেপি নেতাদের এই ধরনের সুরসাধনা নতুন রাজনৈতিক কৌতুক ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা লেখা, গান গাওয়া কিংবা ছবি আঁকার মতো সৃষ্টিশীল কাজগুলো ১৫ বছর ধরে বিরোধী দলগুলোর তীব্র কটাক্ষের শিকার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান বা আঁকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ট্রল, মিম ও রিমিক্স। নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের দুর্গাপূজার থিম সং রচনা ও সুরারোপ করার ক্ষেত্রে মমতার পারদর্শিতা ছিল সর্বজনবিদিত, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের ‘আহুতি’ গানে। এ ছাড়া তৃণমূলের উৎসব সংখ্যার উদ্বোধনের সময় মমতার কণ্ঠে ‘জাগো দুর্গা’ গানটিও একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এবার সবাইকে চমকে দিয়ে খোদ বিজেপির পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ গানের জগতে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যাঁর গানের মূল বিষয়বস্তু হলো কর্মব্যস্ত মানুষের অবসরের প্রিয় সঙ্গী ‘ঝালমুড়ি’।

দিলীপ ঘোষের এই অভিনব ঝালমুড়ি গানের নেপথ্যের অনুপ্রেরণা খুঁজতে গেলে কয়েক মাস পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঝাড়গ্রামে যাত্রাপথে গাড়ি থামিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পর থেকে এই অতিসাধারণ স্ট্রিট ফুড বাংলায় একটি বড় রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়।

এবার সেই রাজনৈতিক প্রতীকটিকেই সুরে সুরে তুলে ধরছেন দিলীপ ঘোষ। ইতিমধ্যে দিলীপ ঘোষের স্টুডিওতে গান রেকর্ডিংয়ের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল মাতামাতি শুরু হয়েছে। শুধু দিলীপ ঘোষই নন, বিজেপির আরেক বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ‘মার্ডার ২’ চলচ্চিত্রের ‘ফির মহব্বত’ গানটি গেয়ে নিজের সাংগীতিক প্রতিভার জানান দিয়েছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পরপরই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে, বিজেপির কখনো ‘তৃণমূলীকরণ’ হবে না। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন যে, সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা অভ্যাসগুলো বিজেপি কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। কিন্তু বর্তমানের এই পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, তৃণমূলীকরণ না হলেও বিজেপি কি তবে ‘মমতাকরণের’ দিকেই এগোচ্ছে? এরপর স্বভাবতই যে রসাত্মক প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো—গানের পর বিজেপি নেতাদের ক্যানভাসে ছবি আঁকা কিংবা কবিতা লেখার মতো শৈল্পিক প্রতিভা দেখার জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত