Ajker Patrika

‘কিমোনো’ ফেরত দিতে দেরি, জাপানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভারতীয় পরিবার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘কিমোনো’ ফেরত দিতে দেরি, জাপানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভারতীয় পরিবার
পরিবার নিয়ে জাপানে ঘুরতে গিয়েছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশিকা জৈন। ছবি: এনডিটিভি

পরিবার নিয়ে জাপানে ঘুরতে গিয়েছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশিকা জৈন। সেখানে গিয়ে পরেছিলেন জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিমোনো। পোশাক ভাড়া নিয়ে ঘুরে-ছবি তুলে ফেরত দিতে দেরি। আর তাতেই বিপাকে পড়তে হলো আশিকাকে। এমনকি পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে এই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আশিকা জৈন। এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, জাপানে ঘুরতে গিয়ে ভাড়া নেওয়া কিমোনো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ফেরত দেওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পুরো পরিবারকে বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছে। এমনকি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখেও পড়েছেন তাঁরা।

ভিডিওতে আশিকা বলেন, ‘ভাই! জাপানের পুলিশ আমাদের ধরতেই চলে এসেছিল। কিমোনো পরতে চেয়েছিলাম, আর তা থেকেই এসবকিছুর শুরু।’

আশিকা জানান, একটি দোকান থেকে জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিমোনো ভাড়া করেছিলেন। পর্যটকেরা জাপানে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ভাড়া নিতে পারেন। দোকানের কর্মীরাই পোশাক পরিয়ে দেন এবং ফিরিয়ে দেওয়ার সময়সীমাসহ সব নির্দেশনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন।

আশিকা বলেন, ‘সেখানে অনেক ধরনের কিমোনো ছিল। দোকানের কর্মীরাও বেশ সহযোগিতা করেছেন। পোশাক পরে আমরা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াই। ছবি তুলি। কিন্তু সমস্যার শুরু হয় যখন সময়মতো কিমোনো ফেরত দিতে ব্যর্থ হই।’

বিকেল ৫টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের দেরি হয়ে যায় বলে জানান আশিকা। তিনি বলেন, ‘ওই দোকানের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩০ মিনিট বিলম্বের জন্য জনপ্রতি ১ হাজার ১০০ ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৪০ টাকা) জরিমানা দিতে হয়। আমরা পাঁচজন ছিলাম। আমাদের ৩৭ মিনিট দেরি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ২ হাজার ২০০ ইয়েন জরিমানা হয় আমাদের।’

আশিকা জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে দোকানের কর্মীদের সঙ্গে দরকষাকষির চেষ্টা করেন এবং অনুরোধ করেন যেন শুধু প্রথম আধা ঘণ্টার জরিমানা রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের অনুরোধ করছিলাম, কেবল প্রথম আধা ঘণ্টার বিষয়টি বিবেচনা করতে। কিন্তু ভাষার সমস্যার কারণে ওই কর্মী ভাবলেন, আমি টাকা দিতে অস্বীকার করছি। আর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশ ডাকলেন!’

খবর পেয়ে জাপানি পুলিশ দোকানে চলে আসে। আশিকা বলেন, ‘পুলিশ শান্তভাবে সব শুনল...কিন্তু ডিসকাউন্ট (ছাড়) দিল শূন্য। এটাই জাপান। সেখানকার নিয়মকানুন খুব কড়া।’

শেষ পর্যন্ত পুরো জরিমানার টাকা পরিশোধ করেই তাঁদের সেখান থেকে ফিরতে হয়।

আশিকার এই ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিছু মানুষ পর্যটকদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ভাষাগত সমস্যার কথা বললেও অধিকাংশই আশিকা ও তাঁর পরিবারের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, ভাড়ার শর্ত না মেনে জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ না করে দরকষাকষি করা ঠিক হয়নি।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দয়া করে এমনটা করবেন না। ফিরতে দেরি হলে সম্মানজনকভাবে জরিমানা দিয়ে দিন। দয়া করে দরকষাকষি করবেন না। পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হলো, তার পরও তারা বলছে কোনো ছাড় পাওয়া গেল না!’

অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘যদি ভারতীয় বেতনে কেউ জাপানে ভ্রমণে গিয়ে কিমোনো ভাড়া করার সামর্থ্য রাখেন, তবে তাঁর জরিমানা দেওয়ার মতো টাকাও নিশ্চিতভাবে আছে। মনে রাখবেন, জরিমানা ৩০ মিনিটের স্লট অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, প্রতি মিনিটের হিসেবে নয়। তাই ৩৭ মিনিট দেরি হলে দুই স্লটের জরিমানা গুণতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত