স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার বর্ণনা দিলেন যাত্রী

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী জানিয়েছেন, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিক একটি ট্রেনযাত্রা পরিণত হয়েছিল মৃত্যুর বিভীষিকায়। সেবাস্তিয়ান হেরেরো (৪৬) নামের ওই যাত্রী বলেছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রেনের বিধ্বস্ত বগি থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের আর্তনাদ ও মরদেহের দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রয়টার্স জানায়, গত বুধবার সকালে মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী আইরিও পরিচালিত একটি দ্রুতগতির ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন হেরেরো। পথে হঠাৎ ট্রেনটি থেমে যায়। প্রথমে তাঁর ধারণা হয়েছিল, বিদ্যুতের ওভারহেড লাইন ছিঁড়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো ট্রেন থেমেছে। স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের সমস্যা বেড়েছে।
কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের পরিচালিত আরেকটি ট্রেন এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে হেরেরোর শরীর ছিটকে সামনের আসনের ওপর গিয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে তাঁর ট্রেনের শেষ তিনটি বগি উঁচু রেলপথ থেকে নিচের ঢালে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে হেরেরো ও তাঁর বগির আরও কয়েক যাত্রী কোনোভাবে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে একটি বেড়া পার হয়ে খোলা জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এরপর পেছনে ফিরে তাকিয়ে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি।
হেরেরো বলেন, ‘দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। কয়েকটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল, মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণ ঘটেছে। আহত মানুষদের করুণ অবস্থায় বেরিয়ে আসতে দেখেছি। কেউ কেউ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আমাদের কাছেই এক জায়গায় রাখছিলেন।’
হেরেরো বলেন, দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরার পর নিজেকে নতুন করে জন্ম নেওয়া মানুষ মনে হচ্ছে। ট্রেনের সামনের দিকে তাঁর বগি থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে সংঘর্ষের ধাক্কায় তাঁর বগির অনেক যাত্রীর হাত ও নাক ভেঙে যায়।
এর আগে গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে আদামুজ শহরের কাছে আরেকটি দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। একই দুই রেল সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকায় নতুন দুর্ঘটনাটি স্পেনের দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপের দীর্ঘতম এই রেল নেটওয়ার্ক একসময় স্পেনের গর্ব হিসেবে বিবেচিত হতো।
হেরেরো জানান, জানুয়ারির দুর্ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস ট্রেনে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। তবে সেভিল-মাদ্রিদ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য বিকল্পও সীমিত। সড়কপথের অবস্থা ভালো নয়, জ্বালানির দাম বেশি এবং বিমানে যাতায়াতও সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
দুর্ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে হেরেরো বলেন, সংশ্লিষ্টদের এখনই দায় নিতে হবে। আদালত, রাজনীতিবিদ কিংবা জনগণ—যার মাধ্যমেই হোক, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে।









