Ajker Patrika

শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতির মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনে আঘাত রাশিয়ার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে, যা শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ (মাক ১০) বেশি। ছবি: এপির সৌজন্যে
ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে, যা শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ (মাক ১০) বেশি। ছবি: এপির সৌজন্যে

ইউক্রেনজুড়ে কয়েক শ ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনীয় হামলার জবাবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

ার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়া তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবন হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ ব্যবহার করেছে। এটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওরেশনিকের দ্বিতীয়বার ব্যবহার।

এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে, যা শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ (মাক ১০) বেশি।

এটি ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পুতিনের দাবি, এর গতি এত বেশি যে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটি রোখা অসম্ভব। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল রাশিয়া।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওরেশনিক ছাড়াও এই হামলায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। কিয়েভে অবস্থিত কাতার দূতাবাস এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাতার যেখানে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, সেখানে তাদের ওপর হামলা দুঃখজনক।

এ ছাড়া কিয়েভের অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠান্ডায় জমে যাওয়া কিয়েভের রাস্তাঘাট যখন বরফে ঢাকা, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় মস্কো।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাবিহা এই হামলাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর সীমান্তের জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পুতিন তাঁর নিজের ‘কাল্পনিক অমূলক আশঙ্কার’ ওপর ভিত্তি করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কালাস এই হামলাকে যুদ্ধের ‘স্পষ্ট উসকানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলা ও নতুন মারণাস্ত্রের ব্যবহার শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত