Ajker Patrika

গ্রিনল্যান্ড বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ, শুল্কের খড়্গ হাতে ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গ্রিনল্যান্ড বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ, শুল্কের খড়্গ হাতে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছেন, তা তিনি ‘শতভাগ’ বাস্তবায়ন করবেন। গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ইউরোপীয় মিত্ররা একযোগে অবস্থান নিয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই ড্যানিশ ভূখণ্ডের মালিক হতে পারেন না।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও ব্রিটেনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ‘শুধু গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কেরই।’ গতকাল সোমবার ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও সাতটি ন্যাটোভুক্ত দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবায়নের কথা আবারও বলেন।

আজ মঙ্গলবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তাঁর ‘টেলিফোনে খুব ভালো আলাপ হয়েছে’ হয়েছে। তিনি বলেন, এ সপ্তাহেই সুইজারল্যান্ডে ‘বিভিন্ন পক্ষের’ একটি বৈঠকে বসতে তারা সম্মত হয়েছেন। পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—এ ব্যাপারে সবাই একমত।’

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ব্রিটিশ পণ্যের ওপর তিনি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। পরে ১ জুন থেকে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলে তিনি বলেন।

একই নিয়ম ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানান ট্রাম্প। এসব দেশই ন্যাটোর সদস্য, যা ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর করবেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমি করব, এই বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত।’ একই সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো কমেন্ট।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে মনোযোগ দেওয়া। সত্যি বলতে, আপনারা দেখছেন এতে ইউরোপ কী পেয়েছে... ইউরোপের সেটাতেই মনোযোগ দেওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ডে নয়।’

ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর অবসান ডেকে আনতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এমনকি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে গত সপ্তাহে কয়েকটি দেশ সেখানে অল্পসংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে। তবে ওই সেনা মোতায়েনের পরই ট্রাম্প আটটি ন্যাটোভুক্ত দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন স্কাই নিউজকে বলেন, ইউরোপকে দেখাতে হবে যে শুল্কের হুমকি দেওয়া ‘সঠিক পথ নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু চূড়ান্ত সীমা আছে, যা অতিক্রম করা যাবে না। হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া যায় না। এই পরিস্থিতি আরও বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎজ বলেন, এই শুল্কে কারও লাভ হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সফরের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই উত্তেজনা চাই না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যযুদ্ধ চাই না।’ তিনি আরও জানান, সপ্তাহান্তে ন্যাটোর তথাকথিত নজরদারি মিশনের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন অবগত ছিল, কারণ এটি আগেই ঘোষণা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল। জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘এটি কখনোই কোনো সামরিক অভিযান ছিল না।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি শীর্ষ বৈঠক ডেকেছে। সেখানে নেতারা গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাইয়া ক্যালাস বলেন, এই ব্লকের ‘কোনো লড়াইয়ে জড়ানোর আগ্রহ নেই, তবে আমরা আমাদের অবস্থানে অটল থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে বাণিজ্য হুমকি এভাবে দেওয়া ঠিক নয়। সার্বভৌমত্ব কোনো বাণিজ্যের বিষয় নয়।’

এদিকে ট্রাম্প ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্তোরের মধ্যে হওয়া বার্তা বিনিময় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, রোববার ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকেই দায়ী করেন। বিবিসির দেখা ওই জবাবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, নোবেল পুরস্কার সরকার নয়, একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে। গত অক্টোবরে এই পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গর আরও লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে নরওয়ের অবস্থান স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ এবং এ বিষয়ে নরওয়ে পুরোপুরি ডেনমার্ককে সমর্থন করে।’

সোমবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওই বার্তা বিনিময়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নরওয়ে পুরোপুরি এটা নিয়ন্ত্রণ করে (নোবেল পুরস্কার), তারা যাই বলুক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলে এর সঙ্গে তাদের কিছুই করার নেই, কিন্তু আসলে সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে।’

এদিকে, সোমবার নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানায়, একাধিক বিমান গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থাটি জানায়, এগুলো নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ, যা ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত নোরাড কার্যক্রমকে সহায়তা’ করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তারা জানায়, এ বিষয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারকে জানানো হয়েছে। পিটুফিক স্পেস বেসে এ ধরনের নোরাড অভিযান ২০২২,২০২৩ এবং গত বছরেও পরিচালিত হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ভবঘুরেকে যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম’, পুলিশকে ‘সাইকো’ সম্রাট

অভিজ্ঞতা ছাড়াই সিটি ব্যাংকে চাকরি, নিয়োগ ১৫ জেলায়

ফের তাপমাত্রা কমবে, কবে থেকে জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

‘বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর নববধূকে চেনা যাচ্ছে না’, কনে ফেরত, বর কারাগারে

জামায়াতের পলিসি সামিটে ভারতসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত