Ajker Patrika

‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হওয়ার পর জানলেন, তাঁরা আপন ভাই-বোন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৫৭
‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হওয়ার পর জানলেন, তাঁরা আপন ভাই-বোন
ডেভ গ্রিন ও অ্যান্ড্রিয়া উর্মস্টন। ছবি: বিবিসি

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টে দুজন অপরিচিত মানুষের পথ একসঙ্গে মিলে গেল। ডেভ গ্রিন ছিলেন একটি বাস স্টেশনের ম্যানেজার, আর ভেন্ডিং মেশিন দেখাশোনা করতেন অ্যান্ড্রিয়া উর্মস্টন। ২০০৫ সালের কথা। প্রথম দেখাতেই তাঁরা নিজেদের মধ্যে অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। কথা বলতে বলতে একজনের কথা আরেকজন শেষ করে দিতেন। হাসি, মজা, সময় কাটানো—সবকিছু যেন তাঁদের অনেক দিনের চেনা।

এভাবে দুই বছরে তাঁদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কাজের বাইরে ফোন, টেক্সট, একে অপরের খোঁজ নেওয়া, যেন একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে ওঠেন তাঁরা। একদিন কথায় কথায় ফোনে ডেভ হঠাৎ বলে ফেলেন—তিনি একজন দত্তক নেওয়া সন্তান। তাঁর জন্মনাম স্টুয়ার্ট প্রাউডলাভ।

কথাটা শুনেই শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল অ্যান্ড্রিয়ার। শৈশবে তাঁরও পদবি ছিল ‘প্রাউডলাভ’। তাঁরও এক ভাই ছিল, যাকে জন্মের পর দত্তক দেওয়া হয়েছিল। অ্যান্ড্রিয়া ভাবলেন, এত কম প্রচলিত একটি পদবি, এটা তো তাঁর ভাই-ই হতে পারে। তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর মায়ের কাছে ফোন করলেন। জন্মতারিখও মিলে গেল, ২৪ মার্চ ১৯৬৬।

আবেগাপ্লুত অ্যান্ড্রিয়া ডেভকে ফোন করে বললেন, ‘এটা তোমাকেই হতে হবে। আমি তোমাকে নিতে আসছি।’

গাড়িতে করে মায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ডেভ চিনতে পারলেন রাস্তাটা। এই রুটে তিনি একসময় বাসও চালিয়েছেন। তাঁর জন্মমায়ের বাড়ি আর অ্যান্ড্রিয়ার স্কুলের পাশ দিয়েই যেত সেই বাস। এত কাছে ছিলেন, অথচ মা আর বোনের খোঁজ জানতেন না।

মায়ের বাড়িতে পৌঁছে তিনজনের চোখেই জল। তাঁদের মা সুসান কাঁদতে কাঁদতে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন। অ্যান্ড্রিয়া বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, আমি আমার ভাই আর মাকে একসঙ্গে পেয়েছি।’

ছোটবেলা থেকেই অ্যান্ড্রিয়া জানতেন তাঁর এক ভাই আছে, যাঁকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। তিনি তাই তাঁর মাকে প্রায়ই বলতেন, ‘চলো, তাঁকে ফিরিয়ে আনি।’ কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ছেলের কোনো সন্ধান পাননি সুসান। তবে অ্যান্ড্রিয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, একদিন তিনি ভাইকে খুঁজে বের করবেন। সেই প্রতিজ্ঞাই পূর্ণ হলো।

দত্তক নেওয়া মা-বাবা ডেভকে অনেক ভালোবেসেই বড় করেছিলেন। ১০ বছর বয়সে ডেভ জেনেছিলেন, তিনি দত্তক নেওয়া সন্তান। কিন্তু দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর জন্ম পরিবার খুঁজতে কখনো ইচ্ছা হয়নি। অথচ এখন তাঁর জীবন বদলে গেছে। ডেভ বলেন, ‘আমার জীবনে তখন খুব একটা আশা ছিল না। হঠাৎ আমার বেস্ট ফ্রেন্ডই আমার বোন হয়ে গেল।’

গল্পটি প্রকাশ করে বিবিসি জানিয়েছে, ডেভ ও অ্যান্ড্রিয়ার মা সুসান সম্প্রতি মারা গেছেন। কিন্তু তিনি ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। ডেভকে অ্যান্ড্রিয়া বলেন, ‘মা সব সময় চাইতেন তুমি ভালো থাকো।’

এখন দুই ভাই-বোন কিডসগ্রোভে একসঙ্গে থাকেন। দুজনের কাছে এই মিলন যেন ‘লটারির জ্যাকপট’। যে বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু, সেটা এখন রক্তের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। জীবনের এমন অপ্রত্যাশিত উপহার তাঁদের দুজনকে আরও কাছাকাছি এনেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত