
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দূরপাল্লার হামলা বন্ধে ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একই সময়ে মস্কো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য স্থানে আকাশপথে হামলা আরও জোরদার করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মস্কোয় আয়োজিত রুশ থিংক ট্যাংক ভলদাই ক্লাবের পলিটিক্যাল ফোরামে পুতিন বলেন, “আমাদের বলা হচ্ছে, ‘তারা যদি তোমাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে তোমরাও তাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে।’ এটা নিছক হাস্যকর।”
গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর পুতিন এই মন্তব্য করেন। ওই বৈঠকের সময় জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়াও যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে, তাহলে কিয়েভ রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
মস্কোভিত্তিক থিংক ট্যাংক আয়োজিত ওই ফোরামে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের এসব হামলার মাধ্যমে দেশটি তাদের কিছু লক্ষ্য আংশিকভাবে অর্জন করেছে। তিনি জানান, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, রাশিয়া এখন এর পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ওপর দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলায় ইউক্রেনের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষ করে রেল খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং কিয়েভকে প্রায় সারাক্ষণ সতর্ক অবস্থায় রাখছে। এর মধ্যেই ইউক্রেন আরেকটি কঠিন শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার একটি রুশ ড্রোন কিয়েভের একটি স্কুলে আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন শহরটির কর্মকর্তারা। ওই সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একের পর এক আকাশ হামলা চলছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ড্রোনটি যখন স্কুলে আঘাত করে, তখন শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনের সংঘাতের অবসান ঘটাতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চায় মস্কো।
ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে নিয়ে কোনো হুমকি দেওয়া হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। এটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। পুতিন বলেন, প্রয়োজন হলে এই অঞ্চল রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, ‘যদি রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখানে আমরা কালিনিনগ্রাদের কথা বলছি এবং সম্ভবত আরও কিছু ভূখণ্ডের কথাও বলা যেতে পারে, তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্যই এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।’
পুতিনের এই মন্তব্যের আগে রাশিয়া ন্যাটোর কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছিল। ন্যাটো চলতি সপ্তাহে জানায়, তারা রাশিয়ার ওই নোট পেয়েছে। এতে মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো যদি রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের এই বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত থাকবে।
পুতিন আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের বুঝতে হবে, এমন একটি মুহূর্ত খুব দ্রুত এবং সবার জন্য অপ্রত্যাশিতভাবে চলে আসতে পারে, যখন আর কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ক্রমাগত উত্তেজনা বাড়ানো এবং আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার এই যুক্তি একসময় এমন একটি ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। ”
তবে পুতিন বলেন, পরিস্থিতি যদি ‘অনুকূলে’র দিকে যায়, তাহলে রাশিয়া যেসব পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ও ব্যবসা জব্দ করেছে, সেগুলো ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসে পুতিন সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে, ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওশাঁ, সাবেক ফরাসি ডিআইওয়াই চেইন লেরয় মার্লিন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ভারত কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসা নামের এক পাকিস্তানির কথা উল্লেখ করেছিল। এমনকি দাবি করেছিলে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে মূসা নিহত হয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে হাশিম মূসাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির...
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ফের বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করলে ইরান আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী জবাব দেবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে তেহরান কূটনৈতিক উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত....
২ ঘণ্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলি বসতি পুনঃস্থাপনের দাবিতে গত রোববার হাজারো ইহুদি সমাবেশ করেছে। কট্টর ডানপন্থী বসতি স্থাপনকারী আন্দোলন নাখালা এই সমাবেশের আয়োজন করে। এই গোষ্ঠীটি ২০০৫ সালে উচ্ছেদ করা ইসরায়েলি বসতিগুলো গাজায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের উভচর হামলা বা অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট ইউনিটও রয়েছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা সামনে রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে