Ajker Patrika

রাশিয়ায় বসেই পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা ক্রেমলিনপন্থী আইনজীবীর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রাশিয়ায় বসেই পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা ক্রেমলিনপন্থী আইনজীবীর
গত সপ্তাহে ক্রেমলিনে ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

রাশিয়ায় বিরল এক রাজনৈতিক নাটকীয়তায় দীর্ঘদিনের ক্রেমলিনপন্থী আইনজীবী ইলিয়া রেমেসলো হঠাৎ করেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। টেলিগ্রামে প্রায় ৯০ হাজার অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান—কেন তিনি পুতিনকে সমর্থন করা বন্ধ করেছেন।

‘আমি কেন পুতিনকে সমর্থন করা বন্ধ করেছি—পাঁচটি কারণ’ শিরোনামের ওই বার্তায় রেমেসলো পুতিনকে ‘অবৈধ’ নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে ব্যর্থ যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস করেছে এবং লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ণ ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে এবং দুই দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা পুতিন তার প্রমাণ।

পরবর্তীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেমেসলো আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘পুতিনের পদত্যাগ করা উচিত এবং তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।’ তাঁর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনী অগ্রগতি করতে পারছে না, বরং ছোট ছোট ভূখণ্ড দখলের জন্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে, যার কোনো বাস্তব লাভ নেই।

তিনি পুতিনের শাসনব্যবস্থাকে ব্যক্তিনির্ভর ও দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, এই ব্যবস্থার পতন অনিবার্য। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক সংকট এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই মানুষটি যা পেয়েছেন, সবই ধ্বংস করেছেন—দেশ ভেঙে পড়ছে।’

রেমেসলোর এই অবস্থান রাশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধপন্থী মহলে এমন সরাসরি পুতিনবিরোধী বক্তব্য অত্যন্ত বিরল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ভেঙে দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—রেমেসলোর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না, অথবা এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল কি না। তবে ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রেমেসলো এসব ধারণা নাকচ করেছেন। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকেই বলা।

অন্যদিকে, রাশিয়ার বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত। কারাবন্দী বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির ঘনিষ্ঠ সহচর লিওনিদ ভলকভ প্রথমে ঘটনাটিকে সাজানো বলে সন্দেহ করলেও পরে মত পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, ‘এমন কথা বলার জন্য মানুষকে জেলে যেতে হয়—এটি খুবই বিপজ্জনক এক দৃষ্টান্ত।’

বর্তমানে রেমেসলো জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর ওপর চাপ আসছে পোস্ট মুছে ফেলতে। তবুও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি বলেছেন, ‘এই দুষ্টচক্র ভাঙার সময় এসেছে। এত দিন এই ব্যবস্থাকে সমর্থন করে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছি—এ জন্য আমারও দায় আছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পটিয়ায় ৩ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত