Ajker Patrika

ট্রাম্পের দূতেরা চলে যাওয়ার পরপরই কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের দূতেরা চলে যাওয়ার পরপরই কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কিয়েভের কোনো একটি অঞ্চলে রুশ হামলার পর আগুনের প্রভা দেখা যায়। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের সফরের পরপরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার সকালে কিয়েভে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর এক দিন আগে ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন সফর করেন। তাঁরা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা আবার শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের স্থানীয় এক প্রতিবেদকও এসব বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিন দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

মার্কিন দূতেরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাজধানী সফরের সময় এই হামলা-বিরতি কার্যকর ছিল। দুই দেশ তাদের রাজধানীতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

কিয়েভের দুটি জেলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সতর্কতা দিয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আগুন লাগে।

রোববার কিয়েভে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। এর এক দিন আগে তারা মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বহু বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসব বৈঠক হয়।

ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এর আগে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন নিজেদের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল। এই ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হয়। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা চলছিল। শুক্রবার দিনের বেলায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবার সদর দপ্তরেও হামলা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ভবনটি হামলার শিকার হয়।

এই হামলাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। এটি আরও একটি ইঙ্গিত দেয় যে, রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা ইউক্রেনের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। এর অন্যতম কারণ হলো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনও আকাশ হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন এখন রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে রাশিয়ার সারাতভ শহরেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সারাতভের গভর্নর জানিয়েছেন, একটি ড্রোন হামলায় শহরের বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত