Ajker Patrika

কঙ্গোফেরত চিকিৎসকের মাধ্যমে ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে ইবোলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৯: ৫৮
কঙ্গোফেরত চিকিৎসকের মাধ্যমে ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে ইবোলা
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত এক চিকিৎসক। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) মানবিক সহায়তা মিশন শেষে দেশে ফেরা এক চিকিৎসকের শরীরে ইবোলা ভাইরাস পাওয়া গেছে। রোগীকে দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ ইউরোপীয় জনগণের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগীর সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার অনেক আগেই ভাইরাসটি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রথম দিকের সংক্রমণগুলো শহরাঞ্চলে শনাক্ত হয়, পরে জনবহুল বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরগুলোতেও রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরন, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির পরীক্ষাও শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ম্যাপ বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উদ্ভাবিত পরীক্ষামূলক অ্যান্টিবডি ওষুধ এমবিপি ১৩৪ কঙ্গোতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যবহার করা হবে। এটি এককভাবে এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের সঙ্গে মিলিয়েও পরীক্ষা করা হবে। ডব্লিউএইচওর পৃষ্ঠপোষকতায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কঙ্গো ও উগান্ডা সরকার যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আরেকটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ওবেলডেসিভির সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা হিসেবে পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং সংস্পর্শ অনুসন্ধানের মতো পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সংক্রমণ বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত