Ajker Patrika

তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সংযত’ হতে হবে—ট্রাম্পকে সি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সংযত’ হতে হবে—ট্রাম্পকে সি
ফাইল ছবি

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের সময় তাইওয়ানকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেছেন। সি ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সংযত’ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং আশা করেন, দুই দেশ পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করার পথ খুঁজে পাবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘চমৎকার’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ছিল ‘দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা।’ ট্রাম্প আগামী এপ্রিলে চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই সফরের জন্য তিনি ‘অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন’।

এই ফোনালাপ এমন এক সময় হলো, যার কিছুদিন আগেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ একাধিক পশ্চিমা নেতা চীন সফর করেছেন। এসব সফরের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানো।

ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ কোটি টন সয়াবিন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে এই পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ টন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং সি চিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘অত্যন্ত ভালো’। তিনি বলেন, দুই নেতা এই সম্পর্ক ধরে রাখার গুরুত্ব ভালোভাবেই বোঝেন।

এর আগে গত নভেম্বর মাসে ট্রাম্প ও সি চিনপিং ফোনে কথা বলেন। তখন বাণিজ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, ফেন্টানিল এবং তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ট্রাম্প ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবারের ফোনালাপে তাইওয়ান ও সয়াবিনের পাশাপাশি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস কেনার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানান ট্রাম্প।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে সি চিনপিং বলেন, এই দ্বীপটি ‘চীনের ভূখণ্ড।’ তিনি বলেন, তাইওয়ানের ‘সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষা করা বেইজিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সি চিনপিং সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অত্যন্ত ‘সংযমের’ সঙ্গে সামলাতে হবে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণে’ অঙ্গীকার করে আসছে। প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের পথও যে পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তা-ও বারবার জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক চীনের সঙ্গে, তাইওয়ানের সঙ্গে নয়। বহু দশক ধরে ওয়াশিংটন এই বিষয়ে এক জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং দ্বীপটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী।

গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এই চুক্তিতে উন্নত রকেট লঞ্চার, স্বচালিত হাউইটজার কামান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় বেইজিং বলেছিল, তাইওয়ানের ‘স্বাধীনতাকে সমর্থন করার এই চেষ্টা’ তাইওয়ান প্রণালিতে ‘বিপজ্জনক ও সহিংস পরিস্থিতি আরও দ্রুত ডেকে আনবে।’

বুধবার ট্রাম্পকে সি চিনপিং বলেন, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি চীনেরও কিছু উদ্বেগ আছে। তিনি বলেন, যদি দুই পক্ষ সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক লাভের চেতনায় একই পথে কাজ করে, তাহলে একে অপরের উদ্বেগ মোকাবিলার পথ অবশ্যই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা আগেই সি চিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার বিষয়টি দুই নেতা প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব: জিতলেও ফল ঝুলবে বিএনপির ২ প্রার্থীর

পাইপলাইন প্রতিস্থাপন: ২১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

বিদেশ থেকে জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাক’ হয় বলে প্রাথমিক ধারণা ডিবির

ছেলের প্যারোল মেলেনি, বৃদ্ধের লাশ গেল কারাগারে

অসন্তুষ্ট নারীদের জন্য ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ করতে চায় আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক দল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত