Ajker Patrika

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলা—মূল হোতা নাউফার মৌলভির ২২০ বছর কারাদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ১২
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলা—মূল হোতা নাউফার মৌলভির ২২০ বছর কারাদণ্ড
মঙ্গলবার কলম্বোর হাইকোর্টে রায় ঘোষণার সময় পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তদের নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে বোমা হামলার ঘটনায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা বিচার শেষে ১৫ আসামিকে ২০০ থেকে ২৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির উচ্চ আদালত। কলম্বোর স্থায়ী হাইকোর্ট ট্রায়াল-অ্যাট-বারে তিন বিচারকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছেন।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সমন্বিত বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৭৯ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

আদালতের রায়ে ১৫ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে হত্যা, সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক রাখাসহ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্য একজন কয়েকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। হামলা চালানো আত্মঘাতী দলগুলোর পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ইব্রাহিম মোহাম্মদ নাউফারকেও ২২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি নাউফার মৌলভি নামেও পরিচিত।

রায়ে পাঁচজনকে ২০০ বছর করে, পাঁচজনকে ২২০ বছর করে, চারজনকে ২৪০ বছর করে এবং একজনকে ২৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দণ্ডিতদের সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য।

অন্যদিকে মামলার ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর খালাসপ্রাপ্তদের কয়েকজন আবেগাপ্লুত হয়ে দণ্ডিতদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। দণ্ডিত আসামিরা পরে সাজা কমানোর আবেদন করার সুযোগ পান।

রায়কে স্বাগত জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ। ক্যাথলিক ধর্মযাজক জুড ফার্নান্দো বলেন, ‘অবশেষে আমরা বিচার পেয়েছি।’ হামলায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের একজন তেরেসা ফার্নান্দোও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, হামলার শিকার মানুষ হিসেবে তাঁরা বিচার পাওয়ার আশায় আদালতে এসেছেন।

হামলার সঙ্গে দুটি শ্রীলঙ্কাভিত্তিক ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। হামলায় সরাসরি জড়িত বলে বিশ্বাস করা ব্যক্তিদের কেউই বর্তমানে জীবিত নেই। কারণ তারা সবাই আত্মঘাতী ছিলেন। তবে এই হামলা ঘিরে শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছিল, হামলার আগে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেননি।

এ ঘটনায় সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান সুরেশ সাল্লের বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের কারও যোগাযোগ ছিল—এমন অভিযোগের পর ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশপ্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

২০২৩ সালে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে হামলার আগে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত