
ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত একটি দ্বীপ হলো নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ। এই দ্বীপে বসবাস করা উপজাতিদের পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শুধু তা-ই নয়, বিচ্ছিন্ন এই উপজাতি হিংস্রতার জন্যও কুখ্যাত। বাইরের পৃথিবীর কাউকে দেখলেই তারা হত্যা করতে উদ্যত হয়। বহিরাগতদের প্রতি তাদের এমন বিদ্বেষী মনোভাবের কারণ জানতে বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে খ্রিষ্টধর্মের প্রচারক জন অ্যালেন চাউকে হত্যার মধ্য দিয়ে পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সেন্টিনেল দ্বীপের বিচ্ছিন্ন অধিবাসীরা। জন অ্যালেন চাও উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপকে ‘পৃথিবীতে শয়তানের শেষ দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে সেন্টিনেলিজরা শুধু চাউকেও হত্যা করেনি, বাইরের পৃথিবীর আরও অসংখ্য মানুষ তাদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তারা যেকোনো ধরনের যোগাযোগকে প্রত্যাখ্যান করে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত কিছু নথির বরাতে সেন্টিনেলিজদের এমন বিদ্বেষী মনোভাবের কারণ সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করা যায়। এসব কারণের মধ্যে থাকতে পারে অপহরণ, অসুখ-বিসুখ এবং বিরক্তিকর যৌন ফটোগ্রাফির মতো কিছু বিষয়।
১৮৮০ সালের দিকে কানাডীয় বংশোদ্ভূত ঔপনিবেশিক প্রশাসক মরিস ভিদাল পোর্টম্যান ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির আদেশে উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপে অবতরণ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই অভিযান সফল হয়নি। আমরা তাদের আতঙ্ক এবং আগত সব বহিরাগতের প্রতি শত্রুতা বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি।’
উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ থেকে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং চার শিশুকে অপহরণ করে দক্ষিণ আন্দামান দ্বীপের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে নিয়ে গিয়েছিলেন পোর্টম্যান। সে সময় তিনি আন্দামান দ্বীপ পেনাল কলোনির সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ওই অপহরণের ফল ভালো হয়নি। কারণ, বাকি দুনিয়া থেকে হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা ওই উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাধারণ রোগগুলোর ক্ষেত্রেও প্রতিরোধক্ষমতা ছিল না। ফলে অপহরণ করে নিয়ে আসা ছয়জনই অল্প সময়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মারা গিয়েছিল। আর অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থ হলে শিশুদেরকে আবারও নিজ দ্বীপে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ওই দ্বীপে নতুন রোগ-বালাইয়ের অনুপ্রবেশ ঘটে। এসব রোগ উপজাতিদের মধ্যে একটি ধ্বংসাত্মক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পোর্টম্যান সেন্টিনেল দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়ে ব্যাপকভাবে লিখে গেছেন। পাশাপাশি তাঁর গবেষণার সঙ্গে নথিভুক্ত করার জন্য বেশ কিছু ছবির একটি সংগ্রহ তৈরি করেছিলেন। এসব ছবির অনেকগুলোই ছিল বিব্রতকর যৌন প্রকৃতির। উত্তর সেন্টিনেল এবং আশপাশের দ্বীপপুঞ্জের পুরুষদের পুরুষাঙ্গ নিয়ে পোর্টম্যানের বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় ছবিগুলোতে। এ ছাড়া সেন্টিনেল উপজাতি নারীদের সৌন্দর্য নিয়েও প্রশংসা করেছিলেন তিনি।
যাহোক, পরবর্তী বছরগুলোতে আরও বেশ কয়েকবার সেন্টিনেল দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন পোর্টম্যান। কিন্তু প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন ওই মানুষগুলো তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে ছিল।
এ বিষয়ে আদিবাসী অধিকার নিয়ে সোচ্চার মানবাধিকার সংস্থা সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল বলছে, পোর্টম্যানের ভ্রমণের স্মৃতিই বহিরাগতদের সঙ্গে সেন্টিনেলিজদের যোগাযোগ না করার কারণ হতে পারে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে লেখা আছে, সম্ভবত বাচ্চারা তাদের রোগগুলো বহন করেছিল এবং ফলাফল হয়েছিল ধ্বংসাত্মক।
বর্তমানে দ্বীপটি ভারত সরকারের দ্বারা সুরক্ষিত। তারপরও জন অ্যালেন চাউ-এর দুর্ভাগ্যজনক অভিযানের মতো মাঝে মাঝেই সেখানে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটবে। সম্প্রতি নৃবিজ্ঞানীদের বহনকারী কয়েকটি হেলিকপ্টার দ্বীপের খুব নিচু এলাকা দিয়ে উড়ে গেলে সেগুলোতে দ্বীপের বাসিন্দাদের বর্শা এবং তির এসে আঘাত করেছে। নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, দ্বীপটির জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বহিরাগতরা এখনো তাদের ভাষা শিখতে অক্ষম হওয়ায় তাদের বিচ্ছিন্নতার সঠিক কারণ ইতিহাসে অজানাই থেকে যেতে পারে।

ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত একটি দ্বীপ হলো নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ। এই দ্বীপে বসবাস করা উপজাতিদের পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শুধু তা-ই নয়, বিচ্ছিন্ন এই উপজাতি হিংস্রতার জন্যও কুখ্যাত। বাইরের পৃথিবীর কাউকে দেখলেই তারা হত্যা করতে উদ্যত হয়। বহিরাগতদের প্রতি তাদের এমন বিদ্বেষী মনোভাবের কারণ জানতে বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে খ্রিষ্টধর্মের প্রচারক জন অ্যালেন চাউকে হত্যার মধ্য দিয়ে পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সেন্টিনেল দ্বীপের বিচ্ছিন্ন অধিবাসীরা। জন অ্যালেন চাও উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপকে ‘পৃথিবীতে শয়তানের শেষ দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে সেন্টিনেলিজরা শুধু চাউকেও হত্যা করেনি, বাইরের পৃথিবীর আরও অসংখ্য মানুষ তাদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তারা যেকোনো ধরনের যোগাযোগকে প্রত্যাখ্যান করে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত কিছু নথির বরাতে সেন্টিনেলিজদের এমন বিদ্বেষী মনোভাবের কারণ সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করা যায়। এসব কারণের মধ্যে থাকতে পারে অপহরণ, অসুখ-বিসুখ এবং বিরক্তিকর যৌন ফটোগ্রাফির মতো কিছু বিষয়।
১৮৮০ সালের দিকে কানাডীয় বংশোদ্ভূত ঔপনিবেশিক প্রশাসক মরিস ভিদাল পোর্টম্যান ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির আদেশে উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপে অবতরণ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই অভিযান সফল হয়নি। আমরা তাদের আতঙ্ক এবং আগত সব বহিরাগতের প্রতি শত্রুতা বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি।’
উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ থেকে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং চার শিশুকে অপহরণ করে দক্ষিণ আন্দামান দ্বীপের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে নিয়ে গিয়েছিলেন পোর্টম্যান। সে সময় তিনি আন্দামান দ্বীপ পেনাল কলোনির সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ওই অপহরণের ফল ভালো হয়নি। কারণ, বাকি দুনিয়া থেকে হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা ওই উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাধারণ রোগগুলোর ক্ষেত্রেও প্রতিরোধক্ষমতা ছিল না। ফলে অপহরণ করে নিয়ে আসা ছয়জনই অল্প সময়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মারা গিয়েছিল। আর অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থ হলে শিশুদেরকে আবারও নিজ দ্বীপে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ওই দ্বীপে নতুন রোগ-বালাইয়ের অনুপ্রবেশ ঘটে। এসব রোগ উপজাতিদের মধ্যে একটি ধ্বংসাত্মক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পোর্টম্যান সেন্টিনেল দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়ে ব্যাপকভাবে লিখে গেছেন। পাশাপাশি তাঁর গবেষণার সঙ্গে নথিভুক্ত করার জন্য বেশ কিছু ছবির একটি সংগ্রহ তৈরি করেছিলেন। এসব ছবির অনেকগুলোই ছিল বিব্রতকর যৌন প্রকৃতির। উত্তর সেন্টিনেল এবং আশপাশের দ্বীপপুঞ্জের পুরুষদের পুরুষাঙ্গ নিয়ে পোর্টম্যানের বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় ছবিগুলোতে। এ ছাড়া সেন্টিনেল উপজাতি নারীদের সৌন্দর্য নিয়েও প্রশংসা করেছিলেন তিনি।
যাহোক, পরবর্তী বছরগুলোতে আরও বেশ কয়েকবার সেন্টিনেল দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন পোর্টম্যান। কিন্তু প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন ওই মানুষগুলো তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে ছিল।
এ বিষয়ে আদিবাসী অধিকার নিয়ে সোচ্চার মানবাধিকার সংস্থা সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল বলছে, পোর্টম্যানের ভ্রমণের স্মৃতিই বহিরাগতদের সঙ্গে সেন্টিনেলিজদের যোগাযোগ না করার কারণ হতে পারে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে লেখা আছে, সম্ভবত বাচ্চারা তাদের রোগগুলো বহন করেছিল এবং ফলাফল হয়েছিল ধ্বংসাত্মক।
বর্তমানে দ্বীপটি ভারত সরকারের দ্বারা সুরক্ষিত। তারপরও জন অ্যালেন চাউ-এর দুর্ভাগ্যজনক অভিযানের মতো মাঝে মাঝেই সেখানে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটবে। সম্প্রতি নৃবিজ্ঞানীদের বহনকারী কয়েকটি হেলিকপ্টার দ্বীপের খুব নিচু এলাকা দিয়ে উড়ে গেলে সেগুলোতে দ্বীপের বাসিন্দাদের বর্শা এবং তির এসে আঘাত করেছে। নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, দ্বীপটির জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বহিরাগতরা এখনো তাদের ভাষা শিখতে অক্ষম হওয়ায় তাদের বিচ্ছিন্নতার সঠিক কারণ ইতিহাসে অজানাই থেকে যেতে পারে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কয়েক মাস আগেই দেশটির কঠোরপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযানের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তি।
৩৪ মিনিট আগে
আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সেরদার জানান, খামেনির বক্তব্যে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সেটা হলো, প্রাণহানির সংখ্যা। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম খামেনি নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন। তিনি বলেছেন, সহিংস বিক্ষোভকারীরা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।’
১ ঘণ্টা আগে
এই ভাষণে প্রথমবারের মতো খামেনি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা ‘হাজার হাজার’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।’
১ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মারোস জেলায় ১১ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের (আইএটি) একটি ফ্লাইট নিখোঁজ হয়েছে। আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ১৭ মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে