সানস্ক্রিন কোম্পানিগুলোর জালিয়াতি ধরা পড়ল অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ায় জনপ্রিয় ২০টি সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সানস্ক্রিন প্রস্তুতকারকদের জন্য কঠোর নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ওষুধ ও চিকিৎসাপণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিজিএ)।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বাজারজাত করার আগে প্রস্তুতকারকদের শুধু মূল উপাদানের মিশ্রণ নয়, বরং বিক্রির জন্য তৈরি চূড়ান্ত পণ্যটির সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর (এসপিএফ) পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের মেয়াদকালজুড়েও পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে।
ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন চয়েস ২০২৫ সালে জনপ্রিয় সানস্ক্রিন পরীক্ষা করে এসব অসংগতির তথ্য প্রকাশ করে। পরীক্ষায় ‘আলট্রা ভায়োলেট’-এর ‘লিন স্ক্রিন এসপিএফ ৫০+ ম্যাটিফাইং জিংক স্কিনস্ক্রিন’-এর এসপিএফ পাওয়া যায় মাত্র ৪। অথচ পণ্যটির গায়ে এসপিএফ ৫০+ উল্লেখ ছিল।
এ ছাড়া বন্ডি স্যান্ডসের এসপিএফ ৫০+ জিংক মিনারেল বডি লোশনের এসপিএফ পাওয়া যায় ২৬ এবং তাদের এসপিএফ ৫০+ ফ্র্যাগরেন্স ফ্রি সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় ৩২। এসব ফল চয়েসের পরীক্ষায় উঠে আসে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আভা চ্যান্ডলার-ম্যাথিউজ ও বেক জেফার্ড গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চান, অর্থ ফেরতের প্রস্তাব দেন এবং পণ্য ব্যবহার বন্ধ করতে বলেন।
বর্তমান নিয়মে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশেষভাবে না চাইলে প্রস্তুতকারকদের এসপিএফ পরীক্ষার ফল জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে।
চয়েসের ভোক্তা-প্রভাববিষয়ক পরিচালক অ্যান্ডি কেলি প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও পরীক্ষার ফল জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব তদারকিতে নিয়মিত পরীক্ষা চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ক্যানসার কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি তিনজনের দুজন জীবদ্দশায় ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। এ রোগে বছরে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।









