Ajker Patrika

তাঁর মতো জোরে চিৎকার বিশ্বের আর কেউ করতে পারে না

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
তাঁর মতো জোরে চিৎকার বিশ্বের আর কেউ করতে পারে না
জোসেফ ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার বাসিন্দা। ছবি: সিএনএন

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার বাসিন্দা জোসেফ ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে জোরে চিৎকার করতে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেশায় তিনি একজন এয়ার কন্ডিশনার পরিষ্কারকর্মী হলেও স্থানীয়ভাবে ‘টাউন ক্রায়ার’ বা সরকারি ঘোষক হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করা ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সিএনএন জানিয়েছে, ৫৮ বছর বয়সী ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ একটি রেডিও স্টুডিওতে ‘Now’ শব্দটি উচ্চারণ করে ১২২.৪ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সৃষ্টি করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৯৪ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্কুলশিক্ষক অ্যানালিসা ফ্লানাগানের গড়া ১২১.৭ ডেসিবেলের রেকর্ড ভেঙে দেন। ফ্লানাগান তখন ‘Quiet’ শব্দটি চিৎকার করে রেকর্ড গড়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২২. ৪ ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা কাছ থেকে শোনা কোনো অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন কিংবা উড্ডয়নের সময় জেট বিমানের শব্দের সমতুল্য।

ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ জানান, এই ধরনের রেকর্ডের জন্য আগে থেকে খুব বেশি অনুশীলন করা সম্ভব নয়। কারণ বারবার চেষ্টা করলে কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়ে। রেকর্ড গড়ার দিন তিনি সাতবার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর কয়েক দিন তাঁর কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে ছিল।

তবে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করা পুরুষ হিসেবে দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর মতে, নারী বিভাগে ফ্লানাগানের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকায় তিনি খুশি। ফলে ফ্লানাগান বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করা নারী এবং তিনি সবচেয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করা পুরুষ হিসেবে পরিচিত থাকবেন।

২০১৭ সালে ক্যানবেরার সরকারি টাউন ক্রায়ার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই উচ্চস্বরে ঘোষণা দেওয়ার দক্ষতা তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কমিউনিটি অনুষ্ঠান, স্কুলমেলা ও গাড়ি প্রদর্শনীতে তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান টাউন ক্রায়ারদের প্রতিযোগিতায় ‘Oyez, Oyez, Oyez’ উচ্চারণ করে ৯৮ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সৃষ্টি করে তিনি বিজয়ীও হয়েছিলেন।

তবে এটি ম্যাকগ্রেইল-বেটআপের প্রথম বিশ্ব রেকর্ড নয়। ২০১৯ সালে তিনি দ্রুততম সময়ে ১০টি তীর নিক্ষেপেরও রেকর্ড গড়েছিলেন। যদিও মাত্র নয় মাস পর এক ৭ বছর বয়সী শিশু সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ‘রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। কেউ যদি আমার রেকর্ড ভাঙে, সেটাও দারুণ ব্যাপার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত