Ajker Patrika

পেন্টাগনে বিপজ্জনক রাসায়নিক আতঙ্কে লকডাউন, পরে জানা গেল ‘ভুল সতর্কবার্তা’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ২২: ৫১
পেন্টাগনে বিপজ্জনক রাসায়নিক আতঙ্কে লকডাউন, পরে জানা গেল ‘ভুল সতর্কবার্তা’
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের ভেতরে বাতাসের মানজনিত সমস্যা বা সম্ভাব্য বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্তের পর আজ বৃহস্পতিবার কয়েকটি তলায় সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বিপজ্জনক উপাদানের উপস্থিতি না মেলায় এবং একে একটি ‘ভুল সতর্কবার্তা’ হিসেবে নিশ্চিত করার পর লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল শুরুতে এক বিবৃতিতে জানান, পেন্টাগনের অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংবলিত ভবনের ভেতরে বাতাসের মানসংক্রান্ত একটি ত্রুটি ধরা পড়ে। এর গুরুত্ব ও উৎস পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রটোকল অনুযায়ী ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ (যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে অবস্থান করা) নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ত্রুটি ধরা পড়ার পর পেন্টাগন ভবনের চার থেকে সাত নম্বর করিডরের দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল এবং কিছু অংশ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে, ভবনের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গ্যাস মাস্ক ও সম্পূর্ণ রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

পেন্টাগনের নিজস্ব ‘ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সি’র হ্যাজমাট বা বিপজ্জনক পদার্থ মোকাবিলাকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সহায়তার জন্য পার্শ্ববর্তী আর্লিংটন কাউন্টির ফায়ার অ্যান্ড ইএমএসের একটি বিশেষ দলও পেন্টাগনে প্রবেশ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে।

টানা এক থেকে দুই ঘণ্টা নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভেতরের বাতাস পুনর্মূল্যায়ন করার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, সেখানে কোনো বিষাক্ত বা বিপজ্জনক রাসায়নিক গ্যাস ছিল না।

এই ঘটনার বিষয়ে অবগত দুটি মার্কিন সূত্র পরে সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, পেন্টাগনের এই লকডাউন মূলত ভবনের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি কারিগরি ত্রুটি বা ‘ভুল সতর্কবার্তা’ ছিল। এরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করা হয় এবং লকডাউন প্রত্যাহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ডেস্কে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, পাঁচ কোণবিশিষ্ট পেন্টাগন ভবনটি বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবনগুলোর একটি, যেখানে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য বাতাসজনিত ত্রুটি শনাক্ত হতেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত