
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বাসিজ মিলিশিয়ার কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল তাঁদের হত্যার দাবি করার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি মেহর নিউজে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, মহাসচিব আলী লারিজানি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। মেহর নিউজে প্রকাশিত কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরান ও ইসলামি বিপ্লবের উন্নতির জন্য আজীবন সংগ্রামের পর তিনি অবশেষে তাঁর বহুদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন, সত্যের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং গর্বের সঙ্গে সেবার ফ্রন্টে শহীদ হওয়ার বরকতময় মর্যাদা অর্জন করেছেন।’
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোলেইমানির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের মধ্যে লারিজানিই সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা। শুক্রবার সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় লারিজানিকে। তিনি তেহরানে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে অনুষ্ঠিত আল-কুদস দিবসের এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে অংশ নেন।
বহু বছর ধরে তিনি ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। একসময় পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক আলোচনার নেতৃত্বও দেন। এর আগে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইসরায়েলি নেতারা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথিত হত্যাকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মঙ্গলবার বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে এবং তাদের সক্ষমতা ধ্বংস করা হচ্ছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী শক্ত হাতে কাজ করছে, যাতে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও কৌশলগত অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত থাকে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেন, লারিজানিকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানিদের নিজেদের সরকার উৎখাতের সুযোগ করে দেওয়া। টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে আমরা আলী লারিজানিকে নির্মূল করেছি, যিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান। এই গোষ্ঠীই আসলে ইরান পরিচালনা করে, একদল গ্যাংস্টারের মতো।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত একবারে ঘটবে না। কিন্তু আমরা যদি এভাবে অব্যাহত রাখি, তবে আমরা তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেব।’
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেন ‘হোয়াক-এ-মোল’ নামের খেলাই খেলছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘সব সময়ই আরেকজন নেতা থাকে...তাই আমি মনে করি না এতে ইরানি শাসনব্যবস্থার কোনো পতন ঘটবে। তবে প্রতীকী ও মানসিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এর আগে গত সোমবার এক বার্তায় লারিজানি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে ইরান পিছিয়ে আসবে না। তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া ইসলামি দেশগুলো ইরানকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যাকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘কিছু ইসলামি সরকারের অবস্থান কি নবী (মুহাম্মদ সা.)-এর এই বাণীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, ‘যে ব্যক্তি “হে মুসলমানরা!” বলে সাহায্যের আহ্বান শুনেও সাড়া দেয় না, সে মুসলমান নয়?’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তিনি। উপসাগরীয় দেশগুলো এসব হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। লারিজানির বক্তব্যে চলমান সংঘাতে কোনো নিরপেক্ষ অবস্থানের সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ‘আপনি কোন পক্ষের?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে লারিজানি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না ইরান। তিনি বলেন, ‘ইসলামি জাতির পূর্ণ শক্তিতে ঐক্য বাস্তবায়িত হলে তা সব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই ঘটনার তদন্ত নাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন এক পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানে বসবাসরত প্রায় ২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ওপর শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অযৌক্তিক আগ্রাসনে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিবে ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে