
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কাছাকাছি সময়ে বেইজিংয়ে আতিথ্য দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আজ শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন সি চিনপিং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ–ও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
২০১৯ সালের পর উত্তর কোরিয়ায় এটি হবে সি চিনপিংয়ের প্রথম সফর। একই সঙ্গে চলতি বছরে এটিই হবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ঐতিহাসিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে জটিল সম্পর্ককে নতুন করে উষ্ণ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এ সফরকে। সি চিনপিংয়ের সর্বশেষ বিদেশ সফর ছিল গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা একের পর এক বেইজিং সফর করেছেন। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সি চিনপিং বেইজিংয়ে ১৭ জন বিশ্বনেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ সপ্তাহেই তিনি লাওসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সি ও কিমের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তখন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিম জং উন। ওই অনুষ্ঠানে ভ্লাদিমির পুতিনও অংশ নেন। তিন নেতার একসঙ্গে উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বিরল ঐক্যের প্রদর্শন হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।
আগামী সপ্তাহের এই সফর সি চিনপিংকে আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন ক্ষমতাধর নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা একজন নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং মে মাসে বলেছিলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ ‘দুই পক্ষের স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতারও সেবা করে।’
সি চিনপিংয়ের সফরের সময় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, তিনি ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে ট্রাম্প বারবার সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে ট্রাম্পের তিন দিনের সফরের সময় কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিও দুই নেতার আলোচনায় উঠে আসে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। তবে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আলোচনা ভেঙে পড়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এ সপ্তাহেই কিম জং উন অস্ত্র-মানের (উইপন গ্রেড) পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনকারী একটি নতুন কারখানা পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ঘোষণা করেন—পিয়ংইয়ং ‘জ্যামিতিক হারে’ দেশের পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করবে।
গত শরতে কিম জং উন ট্রাম্পের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শর্ত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে আসতে হবে। ট্রাম্প এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনীতির বিষয়টি যাই হোক, সি চিনপিং পিয়ংইয়ং যাচ্ছেন নিজস্ব কৌশলগত লক্ষ্য নিয়েই। কারণ বেইজিংয়ের জন্য উত্তর কোরিয়া অন্যতম জটিল অংশীদার। চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সহায়ক। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে চীনই পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচিত।
তবে উত্তর কোরিয়ার অবৈধ পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্র পরীক্ষাকে ঘিরে বেইজিংয়ের উদ্বেগও রয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ, এসব কর্মকাণ্ড একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মনোযোগ বাড়ায়, অন্যদিকে এমন অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করে, যা চীনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পর এবং পরে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পর এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর সি চিনপিংয়ের জন্য দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বেইজিংয়ের কাছে এই সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা, কিউবা ও ইরানের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যেগুলোকে ওয়াশিংটন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, চীন সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে, সি চিনপিংকে কী ধরনের অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাঁর সঙ্গে কিমের বৈঠক ২০২৪ সালে পিয়ংইয়ংয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে দেওয়া অভ্যর্থনার সঙ্গে কতটা তুলনীয় হয়। পুতিনের সেই সফর ছিল প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় তাঁর প্রথম সফর। জাঁকজমকপূর্ণ ওই সফরে তিনি ও কিম জং উন একটি রাশিয়ান নির্মিত অরাস লিমুজিনে একসঙ্গে ভ্রমণ করেন এবং একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
গত মাসে মস্কোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পিয়ংইয়ংয়ে একটি যুদ্ধস্মারক কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করা সেনাদের সম্মান জানানো হয় এবং ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বার্তা পাঠ করে শোনানো হয়।
সি চিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১৯৬১ সালে স্বাক্ষরিত ‘মৈত্রী, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫ তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এটি চীনের একমাত্র পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। কোরীয় যুদ্ধে চীনা সেনারা উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করার এক দশকেরও কম সময় পরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

জাপানে পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের ২০ বছর বয়সী তরুণ জেমস ওয়েস্টন হিগিনবোথাম। গত ২৯ মে জাপানের কিয়োটো শহরে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
৩ মিনিট আগে
ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দসহ সমুদ্রপথে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে হয়রানির অভিযোগ তুলে তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে...
৩১ মিনিট আগে
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল অনুমোদন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সংশোধনীর ওপর ভোটাভুটি এবং প্রেসিডেন্টের অন্যান্য বিতর্কিত নীতি নিয়ে...
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের এক সাংবাদিক চীনের হয়ে অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ৫০ বছর বয়সী থমাস ওয়েইর পকেন (দ্বিতীয়) দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চীনে বসবাস করেছেন এবং কর্মরত ছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে