
অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণী করার প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেটে’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধরা বেশ কিছু বাজিতে গোপন তথ্য ব্যবহারের লক্ষণ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত সপ্তাহান্তে করা এই বাজিগুলোর ধরন ও সময় বিশ্লেষণ করলে একে সাধারণ অনুমান বলে মনে করার সুযোগ কম।
২১ মার্চের আশপাশে তৈরি করা আটটি নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৭০ হাজার ডলার বাজি ধরে দাবি করা হয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে চুক্তিটি হয়, তবে তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার লাভ করবে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন হামলার ঠিক আগে তৈরি করা একটি অ্যাকাউন্টও একইভাবে সফল বাজি ধরেছিল। সেই সময়ও ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা গোপন তথ্য পাচারের প্রশ্ন উঠেছিল। ওই অ্যাকাউন্টটি যুদ্ধবিরতি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বাজি ধরেনি।
সন্দেহজনক এই অ্যাকাউন্টগুলো গত সপ্তাহের শেষ দিকে তৈরি করা হয়। ঠিক সেই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর একটি পোস্টে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘স্টারচাইল্ড’-এর নির্মাতা এবং কয়েন-টেলিগ্রাফের সাবেক গবেষক বেন ইয়র্ক বলেন, এসব ডিজিটাল ওয়ালেট দেখে নিশ্চিতভাবে মনে হচ্ছে—এটি এমন কারও কাজ, যার কাছে বেশ কিছু গোপন তথ্য রয়েছে।
পলিমার্কেট অ্যাকাউন্টগুলো বেনামি হওয়ায় ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মালিকদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন বিনিয়োগকারী নিজের পরিচয় আড়াল করতে বাজিটি একাধিক ওয়ালেটে ভাগ করে দিয়েছেন। বেন ইয়র্কের মতে, যখন কোনো বড় বিনিয়োগকারী বাজারকে প্রভাবিত না করে নিজের অবস্থান আড়াল করতে চান অথবা যখন ইনসাইডার ট্রেডিং হয়, তখনই কেবল এভাবে ওয়ালেট ভাগ করার প্রবণতা দেখা যায়।
পলিমার্কেটে ৩১ মার্চের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা গত কয়েক দিনে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই একটি বিষয়ের ওপরই প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ক্ষেত্রে পলিমার্কেট বা কালশির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন একটি নতুন অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ইরান-ইসরায়েল হামলা—সব ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে ধরা বাজিগুলো প্রমাণ করছে, গোপন তথ্য ব্যবহার করে মুনাফা লুটে নেওয়ার একটি চক্র এখানে সক্রিয়।
পলিমার্কেটের বিনিয়োগকারীদের তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের মালিকানাধীন একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের নাম থাকায় এটি এমনিতেই সমালোচনার মুখে রয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি নিজেকে তথ্যের বিকল্প উৎস বা ‘নিউজ ২.০’ হিসেবে দাবি করলেও তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিডগুলো প্রায়ই মিথ্যা তথ্যে পূর্ণ থাকে।
গতকাল সোমবার পলিমার্কেটসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ডিসকর্ড চ্যানেলে ব্যবহারকারী ও স্বয়ংক্রিয় বটগুলো যুদ্ধকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনের নানা টিপস আদান-প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে আরবিট্রেজ (দাম ওঠানামার সুযোগ নেওয়া) এবং অতীতে ভালো বাজি ধরা ব্যবহারকারীদের অনুসরণ করা। একটি পোস্টে ব্যবহারকারীদের ‘৩১ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি’র পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলা হয়। কারণ, প্ল্যাটফর্মের তিনজন সফল ট্রেডার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বাজি ধরেছিলেন এবং একজন ব্যর্থ ট্রেডার ‘না’-এর পক্ষে বাজি ধরেছিলেন।
তবে পলিমার্কেটে এই নির্দিষ্ট বাজি জিততে কেবল গোপন তথ্য থাকাই যথেষ্ট নাও হতে পারে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে। বাজি নিষ্পত্তির নিয়মে বলা হয়েছে, এই মার্কেটের উদ্দেশে একটি ‘অফিশিয়াল যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ তখনই গণ্য হবে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ থেকে জনসমক্ষে স্পষ্ট নিশ্চিতকরণ আসবে যে—তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক বৈরিতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
তবে পলিমার্কেট এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
৬ মিনিট আগে
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ময়দানে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তেহরানে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
শুধু হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাই তফসিলি জাতি হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারবেন বলে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের আগের একটি সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আজ মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানায়, কোনো ব্যক্তি যদি খ্রিষ্টান বা অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, তবে তিনি আর তফসিলি....
৪ ঘণ্টা আগে